শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪১ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানি ও হিজবুল্লাহ হুমকিতে ইসরায়েল আকাশপ্রতিরক্ষা রেশনিংয়ে, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল কমে এসেছে

এক মাসে গড়ানো ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ইসরায়েল। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন দিক থেকে হুমকির মুখে পড়েছে ইসরায়েল। এর ফলে হামলা ঠেকাতে রীতিমতো বেকায়দা পড়েছে ইসরায়েলের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ বলেছেন, ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্য শুনলে আপনার মনে হতে পারে যে দেশটি এই যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন, ইসরায়েল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে; সামনে আরও বড় আঘাত আসছে।

তবে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করার সুযোগটি হাতছাড়া করছে না। তারা অভিযোগ করছে, নেতানিয়াহুর কাছে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই এবং তিনি ইসরায়েলের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করছেন।

যুদ্ধ শুরুর এক মাস পার হয়ে গেলেও ইসরায়েল এখনও ইরানি হামলার হুমকির মুখে রয়েছে। পাশাপাশি হিজবুল্লাহর রকেট হামলাও অব্যাহত রয়েছে। এখন হুতিদের পক্ষ থেকে তৃতীয় একটি ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েল নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং পদ্ধতি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ সব দিক থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করতে গিয়ে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমাগত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত বিপজ্জনক হারে কমে আসছে।

সামরিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দিক থেকে ধেয়ে আসা শত শত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে তাদের সবচেয়ে উন্নত ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে খরচ হয় কয়েক লাখ ডলার। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচ হওয়ায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

রেশনিং এবং কৌশল পরিবর্তন: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ায় বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতি ব্যবহারের পথে হাঁটছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন বেছে বেছে কেবল সেই সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করছে, যেগুলো সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র মরুভূমি বা জনশূন্য স্থানে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস না করে ইন্টারসেপ্টর সাশ্রয় করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলে মোতায়েন এবং অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একই সঙ্গে ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা মেটানো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ফাটল: বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় দেখা গেছে, ইরানি ড্রোন ও মিসাইল মাঝে মাঝেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর প্রধান কারণ হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অত্যধিক চাপ এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের স্বল্পতা। ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। কিন্তু কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশের সংকটে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক সপ্তাহ চলে, তাহলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়