শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:২৩ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

ঢাকার কোনো ব্যস্ত সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় কিংবা জনবহুল এলাকায় পলাতক আসামি বা তালিকাভুক্ত অপরাধী হেঁটে যাচ্ছে। সে হয়তো ভেবেছে জনসমুদ্রের মধ্যে নিজেকে আড়াল করা যাবে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ক্যামেরা তার মুখের গড়ন বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলল। এরপর সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাছে পৌঁছে যাবে সতর্কবার্তা। মুহূর্তেই শুরু হবে নজরদারি। রাজধানীতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারির আওতায় আনা হবে অপরাধীদের। এরই মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছে পুলিশ। এখন ক্যামেরার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হচ্ছে ডিএমপির তালিকাভুক্ত প্রায় দুই লাখ অপরাধীর বিস্তারিত তথ্যভান্ডার। ডিএমপির বর্তমান ডাটায় ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ঠিকানা, অপরাধের ধরন, মামলা সংখ্যা, গ্রেফতারি পরোয়ানার অবস্থা এবং পূর্ববর্তী অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে। এই তথ্যগুলো পর্যায়ক্রমে এআইভিত্তিক নজরদারি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র বলছে, নতুন ব্যবস্থায় এআই ক্যামেরাগুলো যানবাহনের পাশাপাশি মানুষের মুখমণ্ডলও বিশ্লেষণ করতে পারবে। ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তি যদি ডাটাবেজে থাকা তালিকাভুক্ত অপরাধীর সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক সংকেত চলে যাবে সংশ্লিষ্ট থানার ডিউটি অফিসার, কন্ট্রোল রুম কিংবা টহল টিমের কাছে।

চেহারা বদলালেও মিলবে পরিচয় : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি শুধু সাধারণ ছবি মিলিয়ে দেখে না। এটি মুখমণ্ডলের শতাধিক জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে পারে। চোখের দূরত্ব, নাকের গঠন, চোয়ালের বিন্যাস, কপালের আকৃতি এবং মুখের বিভিন্ন পয়েন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ফলে কোনো অপরাধী যদি দাড়ি-গোঁফ রাখে, চুলের ধরন পরিবর্তন করে কিংবা পোশাক বদল করে, তবুও তাকে শনাক্ত করা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধী এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্যদের শনাক্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন হালনাগাদ হচ্ছে ডাটাবেজ : ডিএমপির একটি সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতিদিন নতুন মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা, অপরাধী গ্রেফতার ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হচ্ছে। ফলে ডাটাবেজে নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে অপরাধীদের তথ্য। এই ডাটাবেজ এআই ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত হলে তা একটি ‘লাইভ ক্রাইম মনিটরিং সিস্টেমে’ পরিণত হবে। কোনো ব্যক্তি সড়কে চলাচল করার সময়ও তার বিষয়ে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।

বাড়ছে এআই ক্যামেরার সংখ্যা : বর্তমানে রাজধানীর অন্তত ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পয়েন্টে প্রায় ৮০টি এআই ক্যামেরা রয়েছে। এ ছাড়া আগে থেকেই রয়েছে ১১০টি সাধারণ ক্যামেরা। এআই ক্যামেরার পাশাপাশি সাধারণ ক্যামেরাতেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে পুলিশ। আগামী পর্যায়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে আরও দেড় হাজার ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তি শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই নয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল মহানগর গড়ে তুলতে চান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরাধীদের জন্য ঢাকায় লুকিয়ে থাকা কঠিন হবে : নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ২ লাখের বেশি তালিকাভুক্ত অপরাধীর তথ্য ধাপে ধাপে এ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে। এর ফলে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, পলাতক অপরাধী কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে। ভবিষ্যতে রাজধানীতে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তারা নজরদারির বাইরে থাকতে পারবে না।

সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নরুল হুদা বলেন, বাংলাদেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। আধুনিক পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের পদক্ষেপ আরও বাড়াতে হবে। প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থায় একজন পলাতক আসামিকে খুঁজে বের করতে অনেক সময়, জনবল ও অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু এআইভিত্তিক ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব।

তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক যাচাইও থাকতে হবে, যাতে ভুল শনাক্তকরণের কারণে কোনো নিরীহ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং অপরিহার্য বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

গোপনীয়তার প্রশ্নে সতর্কতার পরামর্শ : সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, এআইভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর হতে পারে। তবে এর সঙ্গে নাগরিকের গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও জড়িত। ২ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য যদি একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকে, তাহলে সেই ডাটাবেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য ফাঁস, অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা অপব্যবহার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মানের সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।

নতুন যুগে প্রবেশ করছে পুলিশিং : বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে ইতোমধ্যে ফেসিয়াল রিকগনিশন ও এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে অপরাধী নিয়ন্ত্রণ, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের দ্রুত শনাক্ত এবং অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা যাবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এনএস নজরুল ইসলাম বলেন, এই প্রযুক্তির অ্যালগরিদম ও কারিগরি কার্যক্রম অত্যন্ত জটিল। যানবাহনের ক্ষেত্রে নম্বর প্লেট শনাক্ত করে সহজেই মালিকের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো অপরাধীর ছবি পাওয়া গেলে শুধু সেই ছবির ভিত্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ জন্য ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এ নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়