শিরোনাম
◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৩৯ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

হলফনামায় প্রকাশ: কে কত ধনী — শীর্ষ রাজনীতিবিদদের আয় ও সম্পদের চিত্র

মহসিন কবির: জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবার জন্য হলফ নামায় শীর্ষ রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। সেখানে তারা তাদের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে কেউ কোটি পতি, কেউ লাখো পতি, কারো রয়েছে কৃষি জমি, কারো রয়েছে ব্যবসা ও চাকরি। 

তারেক রহমান: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিজের কোনো গাড়ি, বাড়ি নেই। তবে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদ আছে। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫০ টাকা।

‎এদিকে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৫৩ হাজার ১৯১ টাকার। ‎বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা যায়।

‎তারেক রহমান তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি দ্বৈত নাগরিক নন। তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান এভিনিউয়ের এন ই-ডি-৩/বি নম্বর বাসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক। বয়স ৫৭ বছরের বেশি।

তার নামে ‎বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ২০০৭ সাল থেকে ৭৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার কোনোটি থেকে খালাস, কোনটি প্রত্যাহার হয়েছে, কোনোটি খারিজ হয়েছে, কোনোটি থেকে অব্যহতি পেয়েছেন। ‎পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করেছেন। স্ত্রী জুবাইদা রহমান পেশায় চিকিৎসক। মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমান ছাত্রী।

‎তারেক রহমানের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান নেই। শেয়ার, বন্ড/সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত রয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। ব্যাংকে ও নগদ মিলে আছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা, স্ত্রীর আছে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা।

‎স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত, তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির অর্জনকালীন সময়ে শেয়ার আছে ৫ লাখ টাকার, কোম্পানি শেয়ার আছে ৪৫ লাখ টাকার, কোম্পানি আছে ১৮ লাখ টাকার।

‎তারেক রহমানের ব্যাংকে নিজ নামে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার এফডিআর ও অন্যান্য আমানত আছে এক লাখ ২০ হাজার টাকার। স্ত্রীর নামে আছে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর, সঞ্চয়ী আমানত আছে ১৫ হাজার ২৬০ টাকার।

‎অর্জনকালীন ২ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের গহনা, ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকার আসবাব আছে। নেই কোনো আগ্নেয়ান্ত্র ও বিদেশে স্থারব-অস্থাবর সস্পদ।

‎তার নিজের কোনো কৃষি জমি নেই। নেই গাড়িও। ২ দশমিক ১ একর, ১ দশমিক ৪ শতাংশ অকৃষি জমি আছে। ভবন আছে/আবাস্থলের জমি আছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। স্ত্রীর নামের ১১১ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি আছে যৌথ মালিকানায় এবং ৮০০ বর্গফুটের দু’তলা ভবন আছে যৌথমালিকানায়। ‎নিজের, স্ত্রীর বা নির্ভরশীলের কোনো দায় নেই। নেই কোনো সরকারি পাওনা ও ঋণ।

‎আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সম্পদ আছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকার। বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা ৷ আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা।

‎স্ত্রীর সম্পদ ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকার, তার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ৯২৫ টাকা। আর আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা।

‎উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ সংসদীয় আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।

মির্জা ফখরুল: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়ন পত্রের হফল নামায় তিনি উল্লেখ করেছেন তার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও বার্ষিক আয় মিলে তার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকা ৭৩ পয়সা। 

ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হলফনামায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য উল্লেখ করেন।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, মির্জা ফখরুলের নামে মোট পাঁচ একর কৃষি জমি রয়েছে। যার অর্জনকালীন মূল্য ৬০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭০ শতাংশ ও ২.১৪‌ একর জমি। যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। পৈতৃক সূত্রে দোতলা বাড়ির অংশে মূল্য ১০ লাখ টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী-স্ত্রীর নামে রয়েছে ১২ শতাংশ অকৃষি জমি, যার মূল্য মূল্য ৩৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ঢাকার পূর্বাচলে নিজ মালিকানায় রয়েছে পাঁচ কাঠা জমি, যার মূল্য আনুমানিক ৮৫ লাখ ৪ হাজার টাকা।

ভবন ও আবাসিক সম্পদের তালিকায় ঢাকায় অবস্থিত ১৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, যার মূল্য ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চার শতাংশ জমি যার মূল্য পাঁচ লাখ টাকা।

মির্জা ফখরুলের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব রয়েছে। উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের ঠাকুরগাঁও শাখায় ৫ হাজার ২ টাকা, পূবালী ব্যাংক ঠাকুরগাঁও শাখায় ১ লাখ ৯ হাজার ৮০৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ঢাকা শাখায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৭ টাকা ৪৭ পয়সা।

পূবালী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার ১৩২ টাকা। এর পাশাপাশি এক্সিম ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৭ টাকা এবং সিটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে ৩ হাজার ৪৮৫ টাকা রয়েছে। মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।

হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা ৭৭ পয়সা। আর স্ত্রীর আছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩০ টাকা।

বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তিনি ‘দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড’র এক হাজার ৪২৮টি শেয়ারের মালিক, যার মূল্য ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি তার স্ত্রী নামে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র মেয়াদি আমানতে রয়েছে ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি। এ ছাড়া ১০ ভরি স্বর্ণ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার), যার মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার।

বার্ষিক কৃষি খাত থেকে আয় ১ লাখ ৮০ হাজার, ব্যবসায় (হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার থেকে আয়) এক লাখ ৯৭ হাজার ২৩২ টাকা, ইজাব গ্রুপের পরামর্শক হিসেবে সম্মানি ভাতা ৬ লাখ, চাকরি (দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে সম্মানী ভাতা) ১ লাখ ৯৮ হাজার, অন্যান্য যে কোনো উৎস ও ব্যাংক মুনাফা ৭ হাজার ৯০১ টাকা। মোট বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।

হলফনামায় আইনি তথ্যের অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০টি মামলা হয়েছিল। তবে এসব মামলার বেশিরভাগই আদালতের আদেশে স্থগিত, প্রত্যাহার অথবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার কোনোটি তার সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নয় বলে হলফনামায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান: এমবিবিএস পাস করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ঢাকা-১৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দাখিল করা হলফনামা থেকে জানা গেছে, শফিকুর রহমানের বয়স ৬৭ বছর। তাঁর বাবার নাম আবরু মিয়া ও মা খাতিবুন্নেচ্ছা। তাঁর রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার; যার মূল্য দেখানো হয়েছে এক লাখ টাকা। জামায়াতের এ নেতা রাজনীতিবিদ হলেও পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কেবল চিকিৎসক।

হলফনামায় আরও বলা হয়, ডা. শফিকুর রহমানের হাতে রয়েছে নগদ ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। পাশাপাশি ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপরে তার নিজের নামে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকা। বর্তমানে তার কাছে থাকা সম্পদের আনুমানিক মূল্য এক কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা।

আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম জামায়াত আমিরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মুক্তদেশ ডেস্ক: ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি হলফনামায় আরও উল্লেখ করেন, তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি। তার নামে ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি আছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বর্তমানে তার কাছে ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকার সম্পদ আছে। কৃষিখাত থেকে তিনি বছরে তিন লাখ টাকা আয় করেন।

বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার। তার নিজের দুই লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য আছে। এছাড়া সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের যানবাহনসহ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ (যদি একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নাম, নম্বর এবং ব্যাংকের নাম পৃথক কাগজে উল্লেখ করুন) হিসাবে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা দেখিয়েছেন।

জামায়াতের শীর্ষ নেতা হলফনামায় উল্লেখ করেন, ‘আমি একক বা যৌথভাবে বা আমার পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তান বা আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করিনি।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের পেশা, সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা এবং বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা।

নুরুল হক নুর: নুরুল হক নুরের নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বাৎসরিক আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, নুরের নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা। এছাড়া কোম্পানির শেয়ারে তার বিনিয়োগ রয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানতের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। তবে হলফনামায় তার গহনার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

স্থাবর সম্পদের বিবরণে বলা হয়েছে, নুরুল হক নুরের নামে ৮২ ডেসিমেল কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬২ হাজার টাকা। দায় সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, তার নামে পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা।

হলফনামায় নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে চলমান মামলার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটি তদন্তাধীন এবং কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত। এর আগে আটটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

নুরুল হক নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তারের পেশা হিসেবে শিক্ষকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, মারিয়া আক্তারের নগদ অর্থ রয়েছে ৩০ হাজার ৯৪১ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৭ টাকা। তার নামে তিন একর কৃষিজমি রয়েছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, নুরুল হক নুর ও তার স্ত্রী উভয়েই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। সেখানে নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা এবং তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।

পারিবারিক তথ্য হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুল হক নুরের তিন সন্তান রয়েছে—দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এছাড়া তার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে বাবা, মা, ভাই ও বোনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) গলাচিপা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে আসনটিতে নুরুল হক নুরের সঙ্গে সমঝোতা থাকায় বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেয়নি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের আরেক প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ফাহিমও এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ব্যবসা পেশা থেকে বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা। তার এক কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, মিয়া গোলাম পরওয়ারের আয়ের উৎস ব্যবসা। বার্ষিক আয় চার লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ব্যাংকে রয়েছে সাত লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা। স্ত্রীর কাছে রয়েছে দুই হাজার ৬৭৫ টাকা এবং ১৫ ভরি সোনা, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও উল্লেখ করেছেন, তার এক কোটি টাকার স্থাবর ও প্রায় ১৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় বার্ষিক আয় হিসেবে ১৬ লাখ টাকা উল্লেখ করেছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। পাশাপাশি তার নামে ব্যাংক ঋণ রয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

হলফনামা অনুযায়ী, নাহিদ ইসলামের পিতার নাম মো. বদরুল ইসলাম জমির, মাতা মমতাজ নাহার এবং স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা। তিনি বর্তমানে পেশায় পরামর্শক। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকতা ও পরামর্শ প্রদান করে তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। তবে গত বছরে তার মোট আয় হয়েছে ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকা। ওই বছরে তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা।

সম্পদের বিবরণে দেখা গেছে— নিজের কাছে নগদ অর্থ: ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর কাছে নগদ: ২ লাখ টাকা,  ব্যাংকে জমা অর্থ: ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা, নিজের অর্জনকালীন অলংকার: পৌনে ৮ লাখ টাকা,  স্ত্রীর অর্জনকালীন গহনা: ১০ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী: ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র: ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা

নাহিদ ইসলামের নামে কোনো বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। তার নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা মামলা থাকার তথ্যও নেই।

ঠিকানা হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে— বর্তমান ঠিকানা এইচ-৮৪/সি, দক্ষিণ বনশ্রী, গোড়ান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। স্থায়ী ঠিকানা নিগুড় অ্যাপ্লাইড, ফকিরখালী, বড় বেরাইদ, বাড্ডা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

এবারের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগতভাবে অংশ নিচ্ছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ সংসদীয় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। আপিল দায়ের করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

হাসনাত আবদুল্লাহ: স্থাবর-অস্থাবর ও বার্ষিক আয় মিলে মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর। এছাড়াও তার নামে ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা রয়েছে। তিনি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। তার নামে কোনো কৃষি জমি নেই। পিতা-মাতা ও স্ত্রী সন্তান তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে অংশ নিতে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামের কাছে জমাকৃত মনোনয়নপত্রের হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন তিনি।

হলফনামায় হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো উল্লেখ করেছেন, ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ৬৫ হাজার টাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে তার। তার নামে কোথাও কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই।

তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকার মূলধন রয়েছে। পিতা-মাতা স্ত্রী সন্তানের নামে ব্যাংক বা আর্থিক কোনো প্রতিষ্ঠানে তার নামে কোনো ঋণ নেই। বর্তমানে তিনি ব্যবসা করছেন বলে হলফনামার পেশা বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী গৃহিনী।

হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপি মনোনীত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চারবারের নির্বাচিত এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন এরিয়া নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) নির্বাচনী আসন। এটি জাতীয় সংসদের ২৫২ নম্বর আসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯ জন। এ আসনে মোট ১১৬টি ভোট কেন্দ্রের ৭২৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়