শিরোনাম
◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ০৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৭ দুপুর
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গণভোট দেশের জন্য অশুভ সংকেত: ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী

জুলাই সনদ ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মতভেদ তীব্র আকার ধারণ করছে, তখন এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ও মতামত স্পষ্ট করলেন, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও জৈনপুরী পীর ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।

তিনি বলেন, বর্তমান গণভোট দেশের জন্য অশুভ সংকেত। এটি নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল এবং বাংলাদেশকে অরাজকতা ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। সম্প্রতি এক ধর্মীয় আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী বলেন, এই যে গণভোট, পিয়ার আগে পরে এখন তখন যা হচ্ছে, এর মূলে আসলে নির্বাচনকে বিলম্বিত করার উদ্দেশ্য কাজ করছে। এতে দেশকে সামরিক শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে, সন্ত্রাস ও সহিংসতার আগুনে দেশ দগ্ধ হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে, তারাই আবার ওজার ভূমিকায় এসে বিষ নামানোর চেষ্টা করবে। এর পেছনে আন্তর্জাতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ খুঁজছে।

আব্বাসী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা দাবি নিয়ে গণভোট করেছিলেন। তখন সংবিধানে তিনি যুক্ত করেছিলেন ‘মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’—এই নীতিকে রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে। সেই গণভোটের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধকে সংবিধানে স্থান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নীতিকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মুসলমানদের ঈমানের ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি বলেন, যদি এই গণভোটের মাধ্যমে এমন কোনো সনদ বা সংবিধান অনুমোদিত হয়, যেখানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে যে কোনো মুসলমানের উচিত নয় সেখানে অংশ নেওয়া। কারণ, এতে ঈমানের প্রশ্ন জড়িত। এমন ভোট আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহির কারণ হতে পারে।

সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে ড. আব্বাসী সতর্ক করে বলেন, যারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তারা সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। তখন গণভোটের মাধ্যমে যা অনুমোদিত হবে, সেটিও পরবর্তীতে রদবদল করা সম্ভব। তাই গণভোটের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—প্রতিবার গণভোট বা সামরিক শাসনের পরে দেশ রাজনৈতিক সংকটে পতিত হয়েছে। জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে এরশাদের পতন পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায় প্রমাণ করে যে গণভোট কখনো স্থিতিশীলতা আনেনি, বরং রাজনৈতিক বিভাজন বাড়িয়েছে।

তিনি ধর্মীয় আবেগে বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের এখন মহান আল্লাহর ভয় করা উচিত। যারা সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বাদ দিতে চায়, তারা প্রকৃত অর্থে জাতির শত্রু। সংবিধানের মৌলিক নীতি হিসেবে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আব্বাসী আহ্বান জানান, দেশের মানুষ যেন সত্যবাদীদের পাশে দাঁড়ায়, সঠিক পথ অবলম্বন করে। কারণ, এই সময়টি হচ্ছে আমাদের ঈমান, দেশ ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়