শিরোনাম
◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান

প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৯:৫০ সকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইলিশের লাগামহীন দাম, মূল্য বেঁধে দেওয়ার সুপারিশ ট্যারিফ কমিশনের

বাজারে এবার ইলিশের দাম অত্যন্ত চড়া। সরবরাহের ঘাটতিসহ নানা কারণে বাঙালির প্রিয় এ মাছের দাম এত বেড়েছে যে সচ্ছল মধ্যবিত্তদেরও নাগালের বাইরে চলে গেছে তা। এমন পরিস্থিতিতে ইলিশ মাছের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সরকারের ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। তবে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) দাম নির্ধারণের বিষয়টি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

ইলিশ মাছের বাজারমূল্য-সংক্রান্ত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে দাম বেঁধে দেওয়ার সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। এটি বাস্তবায়নের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অনুরোধ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, দাদন ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেওয়া উচ্চ মূল্যকে নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার কর্তৃক ইলিশের আকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের পরামর্শ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের সরবরাহব্যবস্থা আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হবে।

একই সঙ্গে তা জেলে ও ভোক্তা উভয়ের জন্য সহায়ক হবে।

ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, ইলিশ মাছ শিকারে প্রতি কেজিতে ব্যয় ছোট নৌকায় ৪৮৪ টাকা, মাঝারি নৌকায় ৫০৪ টাকা এবং বড় নৌকায় ৪৯৩ টাকা। এর সঙ্গে উৎপাদকের মুনাফা, সংরক্ষণ ব্যয়, আড়তের কমিশন, ফড়িয়া ও পাইকারদের মুনাফা ইত্যাদি মিলিয়ে প্রতি কেজির খরচ দাঁড়ায় ৬৭৭ টাকা থেকে ৭০৬ টাকা পর্যন্ত। আর খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফা ১৩৫ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১৪১ টাকা ১২ পয়সা ধরা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ প্রতি কেজি মাছের খরচ পড়ছে ৮১৩ টাকা থেকে ৮৪৭ টাকা পর্যন্ত।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে ইলিশের সরবরাহ ক্রমাগত বাড়লেও ২০২৩-২৪ সালে কমে গেছে।

ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেখা গেছে ২০১৯-২০ সালে ইলিশ উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন, ২০২০-২১ সালে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ টন, ২০২১-২২ সালে ৫ দশমিক ৬৭ লাখ টন, ২০২২-২৩ সালে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টন এবং ২০২৩-২৪ সালে ৫ দশমিক ২৯ লাখ টন।

কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য রোধে জেলেদের সমবায় সমিতি গঠনের জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে। সরবরাহের ধাপ কমানোর জন্য সরকার একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে। উৎপাদন মৌসুমে দেশের প্রধান শহরগুলোয় সরকারি উদ্যোগে বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। মাছের অপচয় রোধ এবং গুণগত মান বজায় রাখতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং পরিবহনে আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ, আইস প্ল্যান্ট এবং রেফ্রিজারেটেড ভ্যান নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের গবেষণার উদ্দেশ্যে ছিল ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণ পর্যালোচনা, আহরণ থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা, আহরণের ব্যয়, সংরক্ষণপদ্ধতি, সরকারের নীতি সহায়তা পর্যালোচনা এবং রপ্তানির সম্ভাবনা ও মূল্য পর্যালোচনা করা।

দাম নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ইলিশ মাছের দাম নির্ধারণ করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কারিগরি সহায়তা নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করলে তা করতে পারবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বার্তার জবাব পাওয়া যায়নি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মৎস্য অনুবিভাগ) সৈয়দা নওয়ারা জাহান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ট্যারিফ কমিশনের চিঠিটি এখনো আমরা পাইনি। চিঠি পাওয়া গেলে হয়তো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান দাম নির্ধারণের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দাদন চক্র ভেঙে দিতে হবে। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সহজে পুঁজি পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, রুই-কাতলা চাষে খাবার খরচ, পুকুর খরচ, চুরি যাওয়া ইত্যাদি ধরেও সর্বোচ্চ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি করেও চাষি লাভবান হতে পারেন। কিন্তু ইলিশ মাছের ক্ষেত্রে খরচ মূলত শুধু আহরণ ও বিপণনের। সে হিসাবে ইলিশের দাম কেমন হওয়া উচিত, তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো জানেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়