শিরোনাম
◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৫ দুপুর
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইনস্টাগ্রামে বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে প্রেমের করুণ পরিণতি: লাশ সেপটিক ট্যাঙ্কে

পুলিশ দাবি করেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তারা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে প্রেম, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও হত্যার এক চাঞ্চল্যকর কাহিনী। এর শুরু হয়েছিল ইনস্টাগ্রামে, আর শেষ হলো সেপটিক ট্যাঙ্কে। ভারতে মধ্যপ্রদেশে ভুপালের নিশাতপুরা এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ফাঁকা প্লটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ৩৩ বছর বয়সী এক নারীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, নিহত নারীর নাম আশরাফি ওরফে সিয়া। তার সঙ্গে সামির নামে এক ব্যক্তির প্রেম গড়ে ওঠে। কিন্তু সামির একজন বিবাহিত। সিয়া মহারাষ্ট্রের গন্ডিয়া জেলার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের মতে, সোমবার সিয়াকে তার বিবাহিত প্রেমিক সামির শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে, সামিরের পরিবারের সদস্যরাও এতে সহায়তা করেন। পরে মৃতদেহ একটি লোহার বাক্সে ভরে কামলা নগরে বাড়ির কাছের একটি সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়া হয়, যাতে অপরাধের সব প্রমাণ মুছে ফেলা যায়।

প্রায় এক বছর আগে সিয়া ও সামিরের পরিচয় হয় ইনস্টাগ্রামে। সাধারণ কথোপকথন থেকে শুরু হয়ে তা দ্রুত প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। প্রেমে অন্ধ হয়ে সিয়া প্রায় তিন মাস আগে মহারাষ্ট্রের বাড়ি ছেড়ে ভুপালে চলে যান এবং সামিরের সঙ্গে থাকা শুরু করেন। তিনি মনে করেন, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। কিন্তু সামির আগে থেকেই বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।

সিয়া কামলা নগরের বাড়িতে থাকা শুরু করার পর থেকেই নিয়মিত অশান্তি চলতে থাকে। পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, সিয়া ও সামিরের স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই তীব্র ঝগড়া হতো। প্রতিবেশীরাও বাড়ি থেকে উচ্চস্বরে ঝগড়ার শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। সামির নাকি সিয়ার কাছ থেকে অনেক তথ্য গোপন করেছিলেন। ফলে তাদের পারিবারিক অশান্তি দ্রুত বাড়তে থাকে।

তদন্তকারীরা জানান, সিয়া সামিরকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, বিয়ে না করলে তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামিরের স্ত্রী মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে জবলপুরে তার পিতার বাড়ি চলে যান।

সোমবার সন্ধ্যায় সিয়া ও সামিরের মধ্যে আবার তীব্র ঝগড়া হয়। পুলিশের দাবি, রাগের মাথায় সামির সিয়ার গলা টিপে হত্যা করে। প্রমাণ নষ্ট করতে সামির তার ভাই, মা ও বোনের সাহায্য নেয় বলে অভিযোগ। মৃতদেহ একটি লোহার বাক্সে ভরে সোমবার ও মঙ্গলবার মধ্যরাতে বাড়ির পাশের ফাঁকা প্লটের সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাশের শিশুরা খেলতে গিয়ে ট্যাঙ্ক থেকে দুর্গন্ধ পায়। তারা স্থানীয়দের জানায় বিষয়টি। বাসিন্দারা ট্যাঙ্কের ভেতরে একটি লোহার বাক্স ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে ট্যাঙ্ক তল্লাশি করে বাক্সের ভেতর থেকে সিয়ার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে।

মৃতদেহ ভয়াবহভাবে পচে গেছে। ফলে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন বোঝা যাচ্ছিল না। তবে হাতে একটি প্রদীপের ট্যাটু এবং ‘২৬ মে ১৯৯২’ তারিখ খোদাই করা থাকায় পুলিশ নিহতকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তার জন্মতারিখ। নিশাতপুরা থানার পরিদর্শক মনোজ পাতওয়া জানিয়েছেন, মৃতদেহটি তিন থেকে চার দিনের পুরনো বলে মনে হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরোধ করে হত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সামির বর্তমানে পলাতক। তবে মৃতদেহ গোপন করতে সহায়তার অভিযোগে তার ভাই, মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামিরের স্ত্রীকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, পরিবারের আরও সদস্য এ ঘটনার বিষয়ে জানতেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়