শিরোনাম
◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০১ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৩০.৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে মিরসরাইয়ে হাইড্রোপনিক্স টেন্ট প্রকল্প, ৩,০০০ কর্মসংস্থানের আশা

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট উৎপাদন। হংকং-চীনভিত্তিক গ্রিন পিউর হাউজওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের ৩০.৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে গড়ে উঠছে আধুনিক এই উৎপাদন কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি নতুন কারখানা নয়—বাংলাদেশের শিল্প বহুমুখীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মিরসরাই বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। মার্চে বেপজার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ২২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কারখানা নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়েছে এবং আগামী বছরের মার্চ নাগাদ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাটিবিহীন কৃষি প্রযুক্তি বা হাইড্রোপনিক্স বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এই প্রযুক্তির জন্য ব্যবহৃত বিশেষায়িত গ্রিনহাউস টেন্ট নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে সহায়ক। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের পণ্য শিল্পায়িতভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দেশকে নতুন এক বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ এনে দিতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে শুধু হাইড্রোপনিক্স টেন্ট নয়, ইভিএ ক্যাবিনেট ম্যাট, কার্টন এবং পিই প্যাকেজিং ফিল্মও উৎপাদন করা হবে। অর্থাৎ এটি একটি মাল্টি-প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। বছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ পিস টেন্ট ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের বাজারে রপ্তানি করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রচলিত তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। কারণ হাইড্রোপনিক্স টেন্ট একটি নন-ট্র্যাডিশনাল, উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য, যার বৈশ্বিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে এটি দেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কর্মসংস্থান। কারখানাটি চালু হলে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের আশপাশের মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করবে। স্থানীয় অর্থনীতিতে এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে—পরিবহন, আবাসন, ছোট ব্যবসা ও সেবাখাতেও বাড়বে কার্যক্রম।

মিরসরাই বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল হক টিবিএসকে বলেন, "এই প্রকল্পটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ আকর্ষণ, পণ্য বহুমুখীকরণ এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করছে সংস্থাটি।"

বিশ্ববাজারে কৃষি প্রযুক্তি ও স্মার্ট ফার্মিংয়ের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে হাইড্রোপনিক্স টেন্ট উৎপাদন বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জলবায়ু পরিবর্তন, জমির সীমাবদ্ধতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়