শিরোনাম
◈ ধর্ষণের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা চলতে পারে না, সব অপরাধেরই বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী ◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে  ◈ সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, কোনটি কোথায় যাবে ◈ চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা ◈ আধুনিক প্রযুক্তির লড়াইয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেকর্ড ভাঙল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ◈ ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ◈ ব্রা‌জি‌লের বিরু‌দ্ধে মর‌ক্কো দ‌লের একাদশে ১১ জনই ছি‌লো জন্মসূত্রে বিদেশি, বিশ্বকাপে অনন্য কীর্তি ◈ অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের স্লোগান, পাল্টা হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ প্রদর্শন ◈ রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬, ০৬:৫৭ বিকাল
আপডেট : ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা

চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের ২০টির মতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক, সেতু ও রেল খাতের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে কয়েক লাখ কোটি টাকা। তবে তালিকায় থাকা সব প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন পাওয়া যাবে না বা এখনই সেসব বাস্তবায়ন না–ও হতে পারে। তবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার বেশি জোর দেবে।

২১ ও ২২ জুন দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর যাওয়ার কথা আছে। সেখান থেকে তাঁর চীন সফরে যাওয়ার কথা। চার মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।

অগ্রাধিকারে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি ৯টি প্রকল্পের নাম জমা দিয়েছে সেতু বিভাগ। এর মধ্যে আছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ (অ্যালাইনমেন্ট) নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এগুলো হলো বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা-জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদীর ওপর। অন্যটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত। এর বাইরে অন্য যেকোনো উপযুক্ত স্থানে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ (অ্যালাইনমেন্ট) নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এগুলো হলো বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা-জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদীর ওপর। অন্যটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত।

বর্তমানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সংযোগকারী যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৩ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। চার লেনের বিদ্যমান সেতুতে তখন দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

চীনা অর্থায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ। এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মধ্যে।

পদ্মা সেতুর স্থান নির্ধারণের সময় এই পথটিও বিবেচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা রুটে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প নিয়েছিল। এর অনেকগুলোই ছিল অপরিকল্পিত। এই ভুল যেন না হয়। সেবাধর্মী প্রকল্প হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই সেবা কীভাবে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে হবে। আর অবকাঠামো প্রকল্প হলে অবশ্যই এর সঙ্গে সংযোগকারী কী কী সুবিধা হতে পারে, তা ভাবতে হবে। নতুবা বড় প্রকল্পের সুফল পুরোটা পাওয়া যাবে না : সামছুল হক, অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ

ঢাকা–চট্টগ্রামে উড়াল মহাসড়ক

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে একটি উড়াল মহাসড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আছে। সেতু বিভাগ তাদের তালিকায় এই প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করে চীনা অর্থায়নের চেষ্টা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দিনে ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। দেশের প্রধান বন্দরের সঙ্গে রাজধানীকে যুক্ত করেছে এই মহাসড়ক।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যান চলাচলের কথা বিবেচনা করে ২০০৪ সালে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসহ একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে এর সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নে অর্থায়ন করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০১৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত কমিটি পিপিপির অধীন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। ২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ২০২১ সালে এসে প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় তৎকালীন সরকার।

তবে সওজ এখনো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তৎপর। তারা বিদ্যমান চার লেনের মহাসড়ক ১০ লেনে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। অন্যদিকে সেতু বিভাগ পথটি উড়াল পথে করার প্রস্তাব দিয়েছে।

ঢাকার জন্য সাবওয়ে ও নতুন এক্সপ্রেসওয়ে

রাজধানীর যানজট কমাতে ঢাকায় পাতাল পথ বা সাবওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও চীনা অর্থায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে সেতু বিভাগ।

সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজধানীর ১১টি রুটে ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চারটি পথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এগুলোতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

এ ছাড়া সাভারের হেমায়েতপুর থেকে কেরানীগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উড়াল মহাসড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্পনাও আছে। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ২০১৭ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এটি নির্মাণ করা হলে ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমবে এবং তা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে যুক্ত করবে বলে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

সেতু বিভাগের তালিকায় থাকা আরও প্রকল্প হচ্ছে—পাবনা-রাজবাড়ীর মধ্যে সেতু নির্মাণ এবং দ্বিতীয় মুক্তারপুর সেতু নির্মাণ।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মধ্যে বিদ্যমান মুক্তারপুর সেতুটি নির্মিত হয়েছিল চীনের অনুদানে। পরে চীন সেতুটি বিনা পয়সায় মেরামতও করে দেয়। ইতিমধ্যে চীনের রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন নিজেদের অর্থে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। এখন নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মধ্যে আরেকটি সেতু নির্মাণে চীনা অর্থায়ন চায় সেতু বিভাগ।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মধ্যে। পদ্মা সেতুর স্থান নির্ধারণের সময় এই পথটিও বিবেচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা রুটে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এর বাইরে সেতুবিষয়ক গবেষণা এবং সেতু বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনা অর্থায়নে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় সেতু বিভাগ।

চীনের অর্থায়নে কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল সড়ক প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এটিও চীনা কোম্পানি নির্মাণ করছে।

রেলের নজর নতুন লাইন ও ইঞ্জিনে

চীনা অর্থায়নের জন্য পাঁচটি প্রকল্প বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মধ্যে চলমান প্রকল্প পদ্মা সেতুর সংযোগকারী পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পও আছে। প্রকল্পটি জিটুজি (দুই সরকারের মধ্যে চুক্তি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের কাজের ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি এবং অব্যবহৃত চীনা ঋণের অংশ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেলে মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকট প্রকট। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চীন ২০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন অনুদান হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়। প্রকল্পটি চীনা অনুদানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চায় রেল কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ মিশ্র গেজে (মিটারগেজ ও ব্রডগেজ ট্রেন চলতে পারবে) রূপান্তরের প্রকল্প দীর্ঘদিনের। চীনের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। কিন্তু তৎকালীন সরকার বাড়তি ব্যয়ের অভিযোগ তুললে প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ায় চীন। আখাউড়া-সিলেট পথে মূল, শাখা লাইনসহ ২৩৯ দশমিক ১৪ কিলোমিটার রেলপথ মিটারগেজে রূপান্তরের কথা রয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজধানীর ১১টি রুটে ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চারটি পথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এগুলোয় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আবারও আগ্রহ দেখায় চীনা কোম্পানি চায়না রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি। জিটুজি পদ্ধতিতে এই প্রতিষ্ঠানকেই ২০১৭ সালে মনোনীত করেছিল চীন। অর্থাৎ চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দেবে আর প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চীনের কোম্পানিটি।

রেল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি আবারও চীনা অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ, আখাউড়া-সিলেট রেলপথটি দীর্ঘদিন ধরেই কিছুটা বেহাল। বড় প্রকল্প নেওয়া হবে—এমন বিবেচনায় রক্ষণাবেক্ষণও কিছুটা কম হয়েছে। ফলে ওই পথে নতুন ট্রেন চালু কিংবা ট্রেনের গতি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইনের পাশে আরেকটি মিশ্র গেজ লাইন নির্মাণ প্রকল্পও পুরোনো। এটিও চীনের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের কথা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চীন সরে দাঁড়িয়েছিল প্রকল্পটি থেকে। চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর চীনা কোম্পানিটির সঙ্গে আলোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

রেলের আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে ২০০ মিটারগেজ কোচ আমদানি। এর জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। চীনা ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন আরও অনেক ট্রেন চালু করা যাবে বলে রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া রাজবাড়ীতে একটি রেলের আধুনিক ওয়ার্কশপ করার জন্যও চীনের অর্থায়ন চায় রেলওয়ে।

সওজের প্রকল্প

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরও চীনা অর্থায়নে কয়েকটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, চীনের অনুদানে সারা দেশে এ পর্যন্ত আটটি সেতু নির্মিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে আরেকটি চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ করতে চায় অধিদপ্তর। প্রস্তাবিত এই সেতুটি পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকির মধ্যে লোহালিয়া নদীতে নির্মিত হবে।

সারা দেশে বড় পাঁচটি সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়ন করে রেখেছে সওজ। প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া যায়নি। এই পাঁচটি সেতুর নির্মাণে চীনা অর্থায়ন চায় সওজ। এ ছাড়া চীনা অর্থায়নে সারা দেশে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে সম্প্রসারণ ও বড় নদীর সবগুলোয় সেতু নির্মাণে কারিগরি সহায়তা প্রকল্প চায় সওজ।

শুধু প্রকল্প নয়, দরকার পরিকল্পনাও

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প নিয়েছিল। এর অনেকগুলোই ছিল অপরিকল্পিত। এই ভুল যেন না হয়। সেবাধর্মী প্রকল্প হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই সেবা কীভাবে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে হবে। আর অবকাঠামো প্রকল্প হলে অবশ্যই এর সঙ্গে সংযোগকারী কী কী সুবিধা হতে পারে, তা ভাবতে হবে। নতুবা বড় প্রকল্পের সুফল পুরোটা পাওয়া যাবে না। যেমন পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে করা হয়েছে। কিন্তু ঢাকার চারপাশে রিং রোড বা ভেতরে ইনার সার্কুলার সড়ক করা হয়নি। ফলে যাত্রাবাড়ী–গুলিস্তান উড়াল সড়কে যানজট হয়।

চীন ইলেকট্রিফিকেশনে বিশ্বে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সামছুল হক বলেন, রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে চীন থেকে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সূত্র: প্রথম আলো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়