শিরোনাম
◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২৬, ১০:১৬ রাত
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এআই দিয়ে বর্জ্য পানি থেকে অ্যামোনিয়া সার তৈরির বৈপ্লবিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন চীনের বিজ্ঞানীদের

ড্রেন ও কারখানার দূষিত পানি পরিবেশের জন্য অভিশাপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই পানিকে মূল্যবান সারে রূপান্তরের বৈপ্লবিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পানির নাইট্রেট দূষণ দূর করার পাশাপাশি তা থেকে কৃষিকাজে ব্যবহার উপযোগী অ্যামোনিয়া সার তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তাঁরা। নতুন এই আবিষ্কারকে সার্কুলার রিসোর্স রিকভারি বা সম্পদের চক্রাকার ব্যবহারের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটিতে এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহার করে নাইট্রেট থেকে অ্যামোনিয়া তৈরির জন্য সবচেয়ে কার্যকর একটি ডুয়াল-অ্যাটম ক্যাটালিস্ট বা দ্বিপরমাণু অনুঘটক খুঁজে বের করেছেন বিজ্ঞানী। এই অনুঘটক নাইট্রেট অণুর ভেতরের শক্তিশালী নাইট্রোজেন-অক্সিজেন বন্ধনী ভেঙে সেটিকে দ্রুত অ্যামোনিয়ায় রূপান্তর করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের যেকোনো প্রযুক্তির তুলনায় নতুন এই পদ্ধতিতে রূপান্তরের হার প্রায় তিন গুণ বেশি। কৃষি ও শিল্প কারখানার বর্জ্য পানিতে নাইট্রেটের উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি থাকে, যা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি সারে পরিণত হবে।

বর্তমান বিশ্বে অ্যামোনিয়া তৈরির জন্য মূলত শত বছরের পুরোনো হেবার-বশ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রচুর পরিমাণ তাপ ও উচ্চ চাপের প্রয়োজন হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং প্রচুর শক্তি ব্যয় করে। কিন্তু চীনের এই নতুন ইলেকট্রোকেমিক্যাল পদ্ধতিটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কাজ করে। ফলে এটি প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম শক্তি সাশ্রয়ী। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরো বা কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অত্যন্ত সহায়ক হবে।

নাইট্রেট দূষণ জলাশয়ের জন্য এক বড় আতঙ্ক। যখন কৃষিজমি বা কারখানার অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান নদ-নদী বা সাগরে মেশে, তখন সেখানে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। একে বলা হয় ইউট্রোফিকেশন, যার ফলে জলাশয়ে মৃত অঞ্চল তৈরি হয়, যেখানে মাছ বা কোনো জলজ প্রাণী বাঁচতে পারে না। মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, নাইট্রোজেন ও ফসফরাস ব্যবস্থাপনা আধুনিক জলব্যবস্থার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। চীনা বিজ্ঞানীদের এই পদ্ধতি বর্জ্য পানি থেকে নাইট্রোজেনকে সংগ্রহ করে সরাসরি স্থানীয় খামারে পৌঁছে দেবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অ্যামোনিয়া উৎপাদন প্রক্রিয়া মোট কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণের ১.৪ শতাংশের জন্য দায়ী। চীনের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সরাসরি বর্জ্য পানি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করা হবে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়