শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:৩৫ রাত
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানবদেহের ‘গোল্ডেন ব্লাড’: বিরলতম ‘আরএইচ নাল’ রক্ত নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও কৃত্রিমভাবে তৈরির চেষ্টা

মানবদেহের এক রহস্যময় সম্পদ হলো রক্ত। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বিরল হলো ‘আরএইচ নাল’ (Rh-null) নামে পরিচিত এক বিশেষ রক্তের ধরন, যা পৃথিবীতে মাত্র ৫০ জনের শরীরে দেখা যায়। বিরলতা এতটাই যে চিকিৎসকরা একে ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বা ‘সোনার রক্ত’ হিসেবে ডাকে।

প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে এই রক্ত থাকে। বিশেষত্ব হলো—এই রক্তে আরএইচ পরিবারের ৫০টি অ্যান্টিজেনের কোনোটি নেই। ফলে ‘আরএইচ নাল’ রক্তকে সার্বজনীন রক্ত হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব, অর্থাৎ প্রায় সব মানুষকে দেওয়া যাবে।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেল বায়োলজির অধ্যাপক অ্যাশ টোয়ে বলেন, “আরএইচ অ্যান্টিজেন শরীরে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কিন্তু যার রক্তে এগুলো নেই, তার রক্ত সবার জন্য নিরাপদ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে, যখন রোগীর রক্তের গ্রুপ জানা না থাকে, তখন এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।”

কৃত্রিমভাবে ‘সোনার রক্ত’ তৈরির চেষ্টা

জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই বিরল রক্ত মানুষের শরীরে তৈরি হয়। অধ্যাপক টোয়ে এবং তার দল ২০১৮ সালে ল্যাবে ‘ক্রিসপার’ জিন এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই রক্ত কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে সক্ষম হন। তারা অপরিণত লোহিত রক্তকণিকায় পাঁচটি প্রধান রক্ত গ্রুপের জন্য দায়ী জিন সরিয়ে ‘আল্ট্রা-কম্পিটিবল’ রক্ত তৈরি করেন, যা প্রায় সবার শরীরেই মানিয়ে যায়।

অধ্যাপক টোয়ে স্কারলেট থেরাপিউটিকস নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এখানে বিরল রক্তের দাতা থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ল্যাবে নতুন রক্তকণিকা তৈরি করা হচ্ছে, যা জরুরি মুহূর্তে ব্যবহার করা যাবে। আমেরিকা, কানাডা এবং স্পেনের বিজ্ঞানীরাও স্টেম সেল ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে এই বিরল রক্ত তৈরির চেষ্টা করছেন।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা

যদিও কৃত্রিম রক্ত তৈরি সম্ভব, জিন এডিটিং নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও কঠোর নিয়মকানুন থাকায় এটি সাধারণ রোগীর জন্য সহজলভ্য হতে আরও অনেক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

অধ্যাপক টোয়ে বলেন, “এখনও মানুষের শরীর থেকে রক্ত নেওয়াই সবচেয়ে সহজ ও সস্তা উপায়। তবে যাদের রক্তের গ্রুপ বিরল এবং দাতা পাওয়া যায় না, তাদের জন্য ল্যাবে রক্ত তৈরি করা গেলে সেটি হবে এক বিরাট সাফল্য।”

‘সোনার রক্ত’ শুধু বিরল নয়, এটি ভবিষ্যতে অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

সূত্র: জনকণ্ঠ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়