শিরোনাম
◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে 

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কবুতর কীভাবে পথ চিনে? জার্মান গবেষণায় মিলল লিভারের ভেতরে প্রাকৃতিক কম্পাস

পৃথিবীর বুকে নিখুঁতভাবে পথ চেনার ক্ষেত্রে কবুতরের জুড়ি মেলা ভার। কোনো ম্যাপ বা জিপিএস ছাড়াই নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার পর চেনা ঠিকানায় অনায়াসে ফিরে আসতে পারে তারা। শত শত বছর ধরে মানুষ কবুতরের এই অদ্ভুত ক্ষমতাকে চিঠি আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করলেও তাদের শরীরের ঠিক কোথায় প্রাকৃতিক কম্পাস লুকিয়ে আছে, তা এত দিন ছিল এক গভীর রহস্য। অবশেষে জার্মানির একদল বিজ্ঞানী কবুতরের শরীরের ভেতরে থাকা কম্পাসের সন্ধান পেয়েছেন।

বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করে আসছিলেন, অন্যান্য পরিযায়ী প্রাণীর মতো কবুতরও পথ চেনার জন্য পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাহায্য নেয়। এবার জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বন এবং ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ারের একদল বিজ্ঞানী এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। এ বিষয়ে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিজ্ঞানী মার্টিন উইকেলস্কি বলেন, পাখিদের পথ চেনার সক্ষমতাকে আমরা এত দিন তাদের সহজাত প্রবৃত্তি বা মনের অনুভূতি বলে ভাবতাম। আসলে এর পেছনে চমৎকার ভৌত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। কবুতরের এই অভ্যন্তরীণ কম্পাসটি আসলে লুকিয়ে আছে তাদের লিভার বা যকৃতের মধ্যে, যেখানে প্রচুর পরিমাণে আয়রন সঞ্চিত থাকে। প্রাণীদের এই নেভিগেশন বা পথ চেনার ক্ষমতা প্রকৃতির অন্যতম আকর্ষণীয় একটি ঘটনা। যদি শরীরের ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো পাখিদের দিক নির্ণয়ে সাহায্য করে, তবে তা পথ চেনার বিজ্ঞান বা নেভিগেশন সম্পর্কে আমাদের চিরচেনা ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কবুতরের লিভারে থাকা আয়রনবোঝাই ম্যাক্রোফেজ পথ চেনার কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এই কণা একধরনের বিশেষ শ্বেত রক্তকণিকা বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা–সম্পন্ন কোষ। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, এই ম্যাক্রোফেজের মধ্যে একটি বিশেষ কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যাকে পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় সুপার–প্যারা–ম্যাগনেটিজম বলা হয়। এই কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যটি কবুতরের লিভারের ভেতরে আক্ষরিক অর্থেই একটি কম্পাসের কাঁটার মতো কাজ করে।

অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে কবুতরের লিভারের টিস্যু বা কলা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, লিভারের সেই বিশেষ ম্যাক্রোফেজ কোষগুলোর সঙ্গে কবুতরের কিছু স্নায়ুতন্তু সরাসরি যুক্ত রয়েছে। স্নায়ুতন্তুগুলো মূলত লিভারের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক কম্পাসের চৌম্বকীয় সংকেতকে সরাসরি কবুতরের মস্তিষ্কে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম বা তার হিসেবে কাজ করে। এর ফলে কবুতর খুব সহজেই দিক নির্ধারণ করতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়