মনিরুল ইসলাম : জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের (ইউএনইপি) ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে যে সংখ্যাটি উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত দেশের সামগ্রিক খাদ্য অপচয়ের চিত্র।
সোমবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে এই লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আবুল কালাম তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, দেশে উৎপাদিত খাদ্যের একটি বড় অংশ ময়লার ঝুঁড়িতে চলে যাওয়া রোধে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
জবাবে খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ইউনেপের প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের হিসাবটি সামগ্রিক হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন খাতে বিতরণের উদ্দেশ্যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে খাদ্য গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে এবং এই পুরো ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট বা অপচয় হয়। তবে নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ এবং পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই অপচয় পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।
সংসদে বিগত অর্থবছরগুলোর সরকারি খাদ্যশস্য ঘাটতি ও অপচয়ের তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরে এই অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসাবে ছিল শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। সরকারি এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্পষ্ট যে, বিগত অর্থ-বছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থ-বছরে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের ঘাটতি ও অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশের খাদ্য ও নিরাপদতা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের অপচয় ও ক্ষতি রোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমানে নানাবিধ কার্যকর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।