শিরোনাম
◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট ◈ প্রতি মাসেই কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : শিল্পোদ্যোক্তা একে আজাদ (ভিডিও) ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নতুন বেতন কাঠামো, বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি! ◈ বিশ্বকাপে নিয়ম না মেনে বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা জানালায় প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা উড়ালে ৪ লাখ টাকা জরিমানা! ◈ প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম গুরুতর অসুস্থ, সিসিইউতে চিকিৎসাধীন

প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ দুপুর
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

সংসদ সদস‌্যদের একসময় চাহিদা ছিল সড়ক ও সেতু, এখন চান বিশ্ববিদ্যালয় 

ডেস্ক রি‌পোর্ট : নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে চলতি বছর। তবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে নয়, নতুন এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে একটি ভাড়া করা ভবনে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগও সম্পন্ন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অবশ্য বলছেন, ক্লাস শুরুর আগেই অন্তত আট শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

কেবল নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, গত দুই দশকে প্রতিষ্ঠিত দেশের অধিকাংশ নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হয়েছে প্রায় একই বাস্তবতায়। ভাড়া ভবনে ক্লাস, সীমিত শিক্ষক, অপ্রতুল ল্যাব ও প্রশাসনিক সংকট—এসব যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক অঘোষিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশের অন্তত আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হতে পারেনি। ভাড়া করা ভবনেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম। ---ব‌ণিকবার্তা

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সে প্রবণতা এখনো থেমে নেই। জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি তুলেছেন। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনও পেয়েছে। পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যরা।

শিক্ষাবিদদের মতে, একসময় নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, হাসপাতাল কিংবা বিদ্যুৎ প্রকল্পের দাবি বেশি শোনা যেত। কিন্তু গত এক দশকে সে চিত্র বদলেছে। এখন অনেক রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কাছে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা উন্নয়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তারা আরো বলছেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কেবল একটি আইন পাস বা প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে পর্যাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষক, আধুনিক গবেষণাগার, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, আবাসন সুবিধা, প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঘোষণা করা হলেও বছরের পর বছর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয় অস্থায়ী ভবনে, গবেষণা কার্যক্রম সীমিত থাকে এবং শিক্ষক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না; সমান গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষার মানোন্নয়নেও। অন্যথায় তা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য তৈরি করতে পারে নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দীন খান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য হিসেবে পৌনে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূলত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিজেদের বক্তিগত প্রভাব সুসংহত করতেই সংসদ সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে থাকেন। কারণ নতুন প্রতিষ্ঠান মানেই নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও নতুন জনবল নিয়োগের সুযোগ। কিন্তু এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ উচ্চশিক্ষার জন্য লাভজনক হয় না, বরং আরো সংকট বাড়ায়।

বিগত ১৫ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় যেসব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে সেগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে কোনোটিতেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নেই। এমনকি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসও নেই। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য অধ্যাপক কিংবা সহযোগী অধ্যাপক পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে আরো নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে উচ্চশিক্ষায় সংকট আরো ঘনীভূত হবে।’

ইউজিসির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৮। শিক্ষা কার্যক্রম চলমান ৫৪টিতে। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ভাড়া ভবনে চলছে বলে জানা গেছে। আবার ১৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অধ্যাপক নেই, চারটিতে অধ্যাপক সংখ্যা পাঁচজনের কম। ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ল্যাব সংকট।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা এগুলো করছেন লোক দেখানোর জন্য, ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য। এগুলো প্রতারণা ও প্রহসনমূলক। অনেকগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন নেই, ক্যাম্পাস নেই। পাঠদানের ভালো জায়গা নেই। অপরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন মানে পুরনো সমস্যার সঙ্গে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করা।’

সংসদ সদস্যদের কাজ নীতিনির্ধারণ উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক এ শিক্ষক বলেন, ‘তাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার পুরনো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন। পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে সেগুলোর মান বৃদ্ধি এবং নিজেদের সন্তানদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা। এগুলো করলে শিক্ষার মান বাড়বে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে তারা চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাচ্ছে না। প্রতি বছর যা দেয়া হয় তা মোট বাজেটের মাত্র দেড়-দুই শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য খাতেও তারা চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পায় না।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব সংকটের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার মানেও এবং তার প্রতিফলন দেখা গেছে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে। যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং তৈরি হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো গবেষণা। টাইমস হায়ার এডুকেশন ও কিউএসের সর্বশেষ প্রকাশিত র‍্যাংকিংয়ে সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই স্থান পায়নি। কিউএস র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের প্রথম এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ৫৮৫তম। আর টাইমস হায়ার এডুকেশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষে আছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০-এর মধ্যে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা খুবই অপ্রতুল, এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দেয়া যায়; গবেষণা বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ড করা যায় না। এমনকি অনেক সময় যে বরাদ্দ দেয়া হয় তাও ইউজিসি থেকে দিতে দেরি করা হয়, তখন বেতন-ভাতা প্রদানেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আরো বাড়ানো হলে সংকট তো আরো বাড়বে।’

শিক্ষাবিদরা বলছেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট রূপরেখা। কারণ উচ্চশিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যার ওপর নয়; বরং তার শিক্ষার মান, গবেষণার সক্ষমতা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশের ওপর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন মান নিশ্চিতে গুরুত্ব দেয়া। যদি উপযুক্ত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত না করা যায় তবে যতই সংখ্যা বাড়ানো হোক শিক্ষার উন্নয়ন হবে না।’

এদিকে শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার বেড়েছে সাড়ে ২৪ শতাংশ। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে। তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্নকারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ আর এর কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্নদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩ শতাংশেরও কম। আবার যারা কর্মরত আছেন তাদের মধ্যেও দেশের ৫৮ দশমিক ৭৩ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন শ্রমবাজার বিবেচনায় নেয়া। শ্রমশক্তি জরিপগুলোয় আমরা দেখেছি উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। এ থেকে বোঝা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো হলেও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এগুলো ভূমিকা রাখতে পারছে না। যদি সামনেও পুরনো ধারায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয় তাহলে তা সংখ্যাই বাড়াবে, রাষ্ট্রের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উচিত যেসব প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে আগে মানসম্মতভাবে গড়ে তোলা, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারে সে বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। আর যদি নতুন প্রতিষ্ঠান করতেই হয় তাহলে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারে।’

এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে মন্ত্রী বলেন, ‘সব সংসদ সদস্যই নিজ নিজ এলাকায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

বর্তমানে দেশে ৫৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরা আগামী দিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় বৃদ্ধি এবং জনগণের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করব। একটি শিক্ষিত জাতি গঠন করার জন্য আমরা আগামী দিনে এ চিন্তাভাবনা করবো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়