শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৩:১৪ দুপুর
আপডেট : ২১ মে, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৯ জেলায় ১৯ হাজার বিচারপ্রার্থী পেলেন ‘ই-বেইলবন্ড’ সেবা

জামিনের পর অপেক্ষা নয়: ‘ই-বেইলবন্ডে’ দ্রুত মুক্তি, কমছে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য

বাসস: বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানো এবং জামিননামা জালিয়াতি ঠেকাতে দেশের বিচার ব্যবস্থায় প্রথমবার চালু হওয়া ‘ই-বেইলবন্ড’ (ডিজিটাল জামিননামা) দাখিল পদ্ধতি অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।

দেশের ৯টি জেলায় সফল বাস্তবায়নের পর তৃতীয় ধাপে আরও সাতটি জেলায় এই সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। নতুন জেলাগুলো হলো- বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে জামিননামা দাখিলের এই পদ্ধতি চালু হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানি কমেছে। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে আসামির মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

তারা জানান, জনবান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নবগঠিত সরকারের আইনমন্ত্রী এই কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস বাসস’কে জানান, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে এ কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সাত জেলার জেলা ও দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজ এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে গত ৩ মার্চ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার জিপি, পিপি এবং আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে ৪ মার্চ ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এসব সভায় সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক, জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস বলেন, আশা করা হচ্ছে আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের দিকে বাছাই করা জেলাগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ই-বেইলবন্ড’ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ডিজিটাল জামিননামা বা ‘ই-বেইলবন্ড’ দাখিল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে ‘ই-বেইলবন্ড’ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ব্যাপক সাড়া মিলছে। আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী এবং কারা প্রশাসন এই সেবার আওতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনমন্ত্রীও এই প্রক্রিয়ার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. সাজ্জাদুর রহমান বাসসকে বলেন, ‘দেশে প্রথমবার চালু হওয়া ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতি আদালতপাড়ায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে যেসব জেলায় এটি চালু আছে, সেখানে কার্যক্রমটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি জানান, আরও সাতটি জেলায় ডিজিটাল জামিননামা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী এই ডিজিটাল সেবার পরিসর বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

৯ জেলায় সাফল্যের চিত্র:

আইন মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছরের ১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই পদ্ধতি চালু করা হয়। সেখানে আশাতীত সফলতার পর গত ২১ জানুয়ারি দেশের আরও আটটি জেলায় এটি সম্প্রসারিত হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯টি জেলায় মোট ১৯ হাজার ১৮৫ জন বিচারপ্রার্থী সরাসরি এই সেবার সুফল পেয়েছেন। এর মধ্যে এককভাবে নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১২ হাজার এবং মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মৌলভীবাজার, শেরপুর, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, মেহেরপুর ও ঝালকাঠিতে ৭ হাজারের বেশি ডিজিটাল জামিননামা সম্পন্ন হয়েছে।

জালিয়াতি রোধ ও দ্রুত মুক্তির সুযোগ:

আইন মন্ত্রণালয় জানায়, প্রচলিত পদ্ধতিতে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর জামিননামার (বেইলবন্ড) নথি কারাগারে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগত। আইনজীবী, আদালতের ক্লার্ক, নাজির ও পিয়নের মাধ্যমে হাতে হাতে ফাইল পাঠানোর কারণে জেলখানায় চিঠি পৌঁছাতে কয়েক দিন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ হতো। ফলে জামিন পাওয়ার পরও আসামিকে অতিরিক্ত সময় কারাগারে থাকতে হতো এবং এই সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দেখা দিত।

আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব (প্রশাসন-১) মো. আজিজুল হক বাসস’কে জানান, ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতিতে বিচারকের স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে বেইলবন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যায়। এতে আসামির দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত হয় এবং জামিননামা জালিয়াতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক নথি অনুযায়ী, বিচার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করতে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৪৯৯(৩) ধারায় অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আরও জানান, এই আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে একটি আধুনিক ‘ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সারা দেশে এ ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়নে আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪ এর কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। এতে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সংশ্লেষ নেই বলেও জানান তিনি। 

যুগ্মসচিব আজিজুল হক জানান, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে জেলখানায় পৌঁছানো পর্যন্ত ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। ‘ই-বেইলবন্ড’ চালুর পর এখন মাত্র তিনটি প্রধান ধাপে কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ, আইনজীবী অনলাইনে জামিননামা জমা দেবেন। বিচারক সেটি যাচাই করে সরাসরি অনলাইনে জেলখানায় পাঠিয়ে দেবেন। এরপর জেল সুপার বা জেলার অনলাইনেই নথি যাচাই করে আসামির স্বাক্ষর নিয়ে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং বেইলবন্ড জালিয়াতির কোনো সুযোগ থাকছে না।’

অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস বলেন, ‘তৃতীয় ধাপে সাত জেলায় এই সেবা চালুর পর পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে। এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতি পাবে।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়