শিরোনাম
◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে 

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২০ রাত
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ, ক্ষোভে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতি

আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত কুমিল্লায় কর্মরত বহু সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড পেতে চরম হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার মূলধারার অনেক সিনিয়র সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড পাননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৮৩৩ জন সংবাদকর্মী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ড পেয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে—এমন অনেক ব্যক্তি কার্ড পেয়েছেন, যাদের অতীতে কুমিল্লার সাংবাদিকতায় সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। এমনকি অনিবন্ধিত ও শুধুমাত্র ফেসবুক পেইজভিত্তিক কিছু ব্যক্তিও কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। কোনো পত্রিকায় চারজন, কোনো পত্রিকায় তিনজন, আবার কোথাও মাত্র একজনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক বণ্টনের বিষয়ে তদন্ত দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতারা। এছাড়া কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. জাফর সাদিক চৌধুরীর কাছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বিষয়টি তুলে ধরলেও কার্ড বিতরণে বৈষম্য দূর হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এমন আচরণকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে—কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটি, কুমিল্লা সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ, কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব, কুমিল্লা স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন, কুমিল্লা সাংবাদিক ক্লাব ও কুমিল্লা ফটো সাংবাদিক ফোরাম।

কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, নির্বাচন কার্ড বিতরণে জেলা প্রশাসন চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, যা নিন্দনীয়। 

কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা মুন্সী বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজে আচরণ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, অযোগ্য অনেক ব্যক্তিকে কার্ড দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত সাংবাদিকরা বঞ্চিত হয়েছেন।

কুমিল্লা ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি রাসেল সোহেল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, এডিএম যদি এমন আচরণ করে থাকেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের কার্ড প্রদান করা উচিত ছিল; এ বিষয়ে প্রশাসন ভুল করেছে।

সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বৈষম্যহীন কার্ড বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়