শিরোনাম
◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৬:৪১ বিকাল
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদের শপথের শুরুতে কুরআন থেকে কী তিলাওয়াত করা হলো?

জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হলো সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ। এটি কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জনগণের সঙ্গে করা এক নৈতিক ও আমানতের অঙ্গীকার। তাই শপথ অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কুরআনের আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে দায়িত্ববোধ, জবাবদিহি ও অঙ্গীকার রক্ষার শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এবারের শপথ অনুষ্ঠানে তিলাওয়াত করা হয়েছে সুরা নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত—যা অঙ্গীকার পূরণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা বহন করে।

শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে তিলাওয়াত করা হয় পবিত্র কুরআনের সুরা নাহলের ৯১ নং আয়াত। তাহলো—

وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ

‘তোমরা যখন পরস্পর অঙ্গীকারে আবদ্ধ হও, তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজেদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।’ (সুরা নাহল: আয়াত ৯১)

আয়াতের তাৎপর্য

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি পূরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। যখন কেউ শপথ করে, তখন সে আল্লাহকে সাক্ষী ও জামিন করে। ফলে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করা শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় দায়িত্বভঙ্গও বটে।

বিশেষভাবে এখানে মানুষের পারস্পরিক চুক্তি ও সামাজিক অঙ্গীকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে— ব্যক্তিগত কসমের বিষয় নয়। অর্থাৎ জনগণের সঙ্গে বা একে-অন্যের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই।

ব্যক্তিগত কসমের বিধান

যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর নামে কসম করে কোনো কাজ করার বা না করার অঙ্গীকার করে, পরে যদি বুঝতে পারে বিপরীত কাজটিই তার জন্য কল্যাণকর—তবে সে কল্যাণকর কাজটি করবে এবং শপথ ভঙ্গের জন্য কাফফারা আদায় করবে। এমন ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গ করাই মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ، إِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ، فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ، وَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ

‘হে আবদুর রহমান ইবনে সামুরা! তুমি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর যদি তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পাও, তবে তোমার শপথের কাফফারা আদায় কর এবং যা উত্তম তা-ই কর।’ (বুখারি ৬৬২২, মুসলিম ১৬৫২)

হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন—

وَإِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَا أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ، فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، إِلَّا أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، وَكَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي

‘আল্লাহর কসম! আমি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর যদি তার বিপরীতে উত্তম কিছু দেখি, তবে আমি উত্তম কাজটিই করি এবং শপথের কাফফারা আদায় করি।’ (বুখারি ৬৬২৩, মুসলিম ১৬৪৯)

কুরআনের আরও নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَجْعَلُوا اللَّهَ عُرْضَةً لِأَيْمَانِكُمْ أَنْ تَبَرُّوا وَتَتَّقُوا وَتُصْلِحُوا بَيْنَ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

‘তোমরা সৎকাজ, তাকওয়া অবলম্বন এবং মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন থেকে বিরত থাকার অজুহাত হিসেবে আল্লাহর নামে শপথ করো না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’  (সুরা বাকারা: আয়াত ২২৪)

এ আয়াতে শপথকে কল্যাণকর কাজের প্রতিবন্ধক বানাতে নিষেধ করা হয়েছে।

শপথের আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা

শপথ অনুষ্ঠানে তিলাওয়াতকৃত সুরা নাহলের ৯১ নম্বর আয়াতে মানুষের সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার বা চুক্তির কথা বলা হয়েছে—যা ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ তাআলা এ ধরনের অঙ্গীকার রক্ষার ব্যাপারে দৃঢ় নির্দেশ দিয়েছেন।

এই আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে— তারা দেশের জনগণের সঙ্গে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হচ্ছেন, তা শুধু সাংবিধানিক নয়; বরং নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। জনগণের আস্থা রক্ষা এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হবে তাদের প্রকৃত শপথের সফলতা।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়