শিরোনাম
◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক

প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬, ০৯:১৮ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিকেনস নেকে কৌশলগত তৎপরতা বাড়াচ্ছে ভারত

চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডর হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি সংকীর্ণ ভৌগোলিক করিডর, যা ভারতীয় মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে। এই করিডর মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং দেখতে অনেকটা মুরগির গলার মতো সরু। তাই এর নাম চিকেন’স নেক। অন্যতম এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে থমকে থাকা সড়ক ও রেল সম্প্রসারণ প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওই এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাতটি জাতীয় সড়ক কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর হাতে হস্তান্তরের ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য।

এই সরু করিডরটিই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে যুক্ত করার একমাত্র স্থলপথ। এর পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং কাছেই চীনের চুম্বি উপত্যকা অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলটিকে ভারতের অন্যতম কৌশলগতভাবে দুর্বল ও স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজ্যের মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে এই নতুন ছাড়পত্র মেলার পর, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো এখন অবিলম্বে তাদের থমকে থাকা নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের কাজ শুরু করতে পারবে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সড়কগুলো এর আগে পশ্চিমবঙ্গ গণপূর্ত দপ্তরের অধীনে ছিল, যা এখন থেকে ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ এবং ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপারেশন লিমিটেড’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, এনএইচএআই ৩১, ৩৩ এবং ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর দায়িত্ব নেবে। অন্যদিকে, এনএইচআইডিসিএল দেখাশোনা করবে সেভক-করোনেশন ব্রিজ, হাসিমারা-জয়গাঁ রুট এবং চ্যাংড়াবান্ধা করিডরের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো।

মুখ্যসচিবের দপ্তরের একটি সরকারি নোটে বলা হয়েছে, এই সাতটি সড়ক এক সঙ্গে ‘সিকিম, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সুদৃঢ় করবে এবং দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে।’ এ ছাড়া মালদা ও মুর্শিদাবাদের মধ্য দিয়ে বিহার-বেঙ্গল করিডরের উন্নতি ঘটবে এবং মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা হয়ে ঘোজাডাঙা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ আরও আধুনিক হবে।

সড়ক হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্তটি এই করিডরে কেন্দ্রের একটি সুদূরপ্রসারী ও বিশদ কৌশলগত রেল সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সঙ্গেও জড়িত। কেন্দ্র সরকার এখানকার বিদ্যমান ডাবল রেললাইনকে একটি ছয়-ট্র্যাকের রেলব্যবস্থায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে ‘তিন মাইল হাট’ এবং ‘রাঙ্গাপানি’ স্টেশনের মাঝে একটি ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেল করিডরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০-২৪ মিটার গভীরে নির্মিতব্য এই ভূগর্ভস্থ অংশটি মূলত সম্ভাব্য বিমান হামলা, দূরপাল্লার কামানের গোলা এবং ড্রোন যুদ্ধ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও লজিস্টিক সরবরাহব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ি করিডরকে একটি ভূরাজনৈতিক ‘প্রেসার পয়েন্ট’ হিসেবে দেখে আসছেন। কারণ এই সরু অংশে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেই তা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় ৫ কোটি মানুষকে দেশের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক এই সড়ক হস্তান্তরের ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিকাঠামোগত কাজে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং যোগাযোগব্যবস্থার চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়