শিরোনাম
◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ০৯ মে, ২০২৬, ০৮:১৩ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গভীর সমুদ্রের সম্পদ দখলে নতুন কৌশলগত লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন!

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করছে। এই ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ভূরাজনৈতিক সংকটের বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করছে।

দুই শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং ভূরাজনৈতিক সংকট কীভাবে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে তা নিয়ে সাম্প্রডুশ প্রতিবেদনগুলোর নজর পড়ছে সমুদ্রের গভীরে। চীনের পারমাণবিক সাবমেরিন যুদ্ধের উচ্চ-বাজেটের চিত্রায়ন ‘অপারেশন হাদাল’ চলচ্চিত্রটিকে বিশ্লেষকরা নিছক বিনোদন হিসেবে না দেখে, বরং দীর্ঘমেয়াদী সামুদ্রিক ক্ষমতার পালাবদলের একটি সাংস্কৃতিক সংকেত হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মূল্যায়ন এই পরিবর্তনকে আরও বেশি বৈরী দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছে। গোয়েন্দা তথ্য সতর্ক করেছে যে, চীনের ক্রমবর্ধমান সাবমেরিন আধুনিকীকরণ এবং সমুদ্রতলের অবকাঠামো উন্নয়ন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমুদ্রতলের শ্রেষ্ঠত্বকে ক্ষুণœ করছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক সামরিক আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাবমেরিন আধিপত্যের ব্যবধান কমাচ্ছে। বেইজিং সমুদ্রকে বৈশ্বিক শক্তি প্রতিযোগিতার নতুন সীমান্ত হিসেবে দেখছে, যেখানে সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং গভীর সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান একসঙ্গে এগোচ্ছে।

মার্চ মাসে ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের এক শুনানিতে কর্মকর্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, চীনের সমুদ্রতলের কৌশল সামরিক আধুনিকীকরণকে উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রাপ্তির সাথে একীভূত করেছে। একে দেশটির সামরিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে, চীনের সামুদ্রিক সম্প্রসারণকে একই সাথে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্রধান সমুদ্রপথ জুড়ে বিস্তৃত সমুদ্রবিদ্যা সংক্রান্ত মানচিত্রাঙ্কন এবং সমুদ্রতলের অবকাঠামো ব্যবস্থা। যা বৈশ্বিক নৌপথে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি উন্নয়নকে নিয়ন্ত্রণের চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বেইজিংয়ের প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ গোয়েন্দা সংস্থার কমান্ডার মাইকেল ব্রুক্স বলেন, ‘চীনের সমুদ্রতল উচ্চাকাক্সক্ষা সুসংগঠিত ও পর্যাপ্ত সম্পদনির্ভর, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।’বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই উদীয়মান বাস্তবতা কেবল সামরিক প্রতিযোগিতাই নয়, বরং এটি সমুদ্র শাসনের একটি কাঠামোগত লড়াই যেখানে সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিগত গভীরতা এবং কৌশলগত নাগাল ক্রমশ অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়