শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২৬, ০৯:১০ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জামারায় হাজিদের প্রাণহানি রোধে বাংলাদেশি প্রকৌশলীর পরিকল্পনা

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে জামারায় শয়তানকে পাথর মারার সময় হুড়াহুড়িতে পদদলিত হয়ে অতীতে সৌদি আরবে বহু হজযাত্রী মারা গেছেন। বাংলাদেশের প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম সস্ত্রীক হজে গিয়ে এই দৃশ্য দেখে মর্মাহত হয়ে ভাবলেন কীভাবে তা থামানো যায়। দেশে ফিরে তিনি একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রণয়ন (পরিকল্পনা) করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। সেখান থেকে ঢাকার সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে সৌদি সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

হজের সময় পাথর মারার জন্য প্রত্যেক হাজিকে মক্কার মিনায় তিন দিন অবস্থান করতে হয়। যে তিনটি স্তম্ভে পাথর মারতে হয়, তাকে বলা হয় জামারা। এটা শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভ। প্রথম জামারার নাম জামরাতুল আকাবা বা বড় শয়তান, মধ্যেরটি জামরাতুল উস্তা বা মেজ শয়তান এবং শেষেরটি জামরাতুল উলা বা ছোট শয়তান। একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৩৩০ মিটার। পাথর মারার ক্ষেত্রে আগে কোনো নিয়ম ছিল না। যে যেদিক থেকে যেভাবে পারত, পাথর মারা শুরু করত এবং এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলায় পদদলিত হয়ে অনেকে প্রাণ হারাতেন। মোহাম্মদ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সালে হজ করতে গিয়েছিলেন। সেই বছর শয়তানকে পাথর মারতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ২৭০ হাজির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রকৌশলী ইব্রাহিম মর্মাহত হন।

দেশে ফিরেই মোহাম্মদ ইব্রাহিম শয়তানকে পাথর মারার একটি মডেল একমুখী বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করলেন। তাঁর পরিকল্পনার চারটি ধাপ রয়েছে– ১. প্রতিটি জামরাকে বেড়া দিয়ে পরস্পর সংযুক্ত করতে হবে, যাতে উভয় দিকে দুটি রাস্তা তৈরি হয়। ২. জামরার দেয়াল মাত্র ছয় ফুট বাই ছয় ফুট ছিল, তা উভয় দিকে অন্তত ৩০ ফুট করে বাড়িয়ে নেওয়া হলে জায়গা প্রশস্ত হবে। ৩. একমুখী ট্রাফিক সিগন্যালের ব্যবস্থা করা হবে। ৪. এরপর মিনার দিকে ‘প্রবেশ’ ও অপর প্রান্তে ‘বাহির’ বসিয়ে জনতার স্রোত একমুখী করা। হাজিরা এদিক দিয়ে ঢুকে পাথর মেরে ওদিক দিয়ে বেরিয়ে যাবেন; কেউ পেছনে ফিরবেন না। হজযাত্রীদের  দিকনির্দেশনার জন্য পর্যাপ্ত  সাইনবোর্ড  ব্যবহার করা হবে। এই ছিল প্রস্তাবিত প্রকল্পের সংক্ষিপ্তসার।

খোদ সৌদি বাদশাহ ফাহাদ নিখুঁত পরিকল্পনায় খুশি হন। তিনি প্রকৌশলী ইব্রাহিমকে মুহিব্বুল খায়ের বা কল্যাণকামী উপাধিতে ভূষিত করে তাঁর জন্য উপহারসামগ্রী পাঠান। শুধু তাই নয়, পরে তাঁকে পবিত্র মক্কায় প্রকল্পপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কাবা শরিফের তৎকালীন প্রধান ইমাম শায়খ আবদুস সুবাইল বলেন, পৃথিবীর ১০ জন সেরা প্রকৌশলীর মধ্যে ইব্রাহিম একজন। কেননা, এর আগে অনেক প্রকৌশলী  হজযাত্রী হিসেবে হজ করে গেলেও কেউ কখনও বিষয়টি নিয়ে ভাবেননি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিমের জন্ম ১৯৪১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বাবা স্কুলশিক্ষক। ১৯৬২ সালে বুয়েটে পুরকৌশলে ভর্তি হলেও তৃতীয় বর্ষে ওঠার পর স্বাস্থ্যগত কারণে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক বিআইটি)  মাইগ্রেশন করেন।  সেখান থেকে  বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর জাপানে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষা বিভাগ, বিআরটিসি, ওয়াপদা এবং বিসিআইসিতে কর্মরত ছিলেন। বিসিআইসির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে  ‘হাউ টু বিল্ড এ নাইস হোম’  বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। তাঁর অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে– ‘রাহে মক্কা রাহে মদিনা, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং, কোরানিক গাইড, হজ পরিক্রমা, স্বল্পমূল্যে গৃহনির্মাণ, আল কোরআনে আধুনিক বিজ্ঞান ইত্যাদি। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাবুপুর গ্রামে ইসলামিয়া ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর অনুদানে কয়েকটি মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিচালিত হয়। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই মারা যান। মৃত্যুর আগে ২০১৬ সালে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, মিনায় বর্ধিত প্রকল্পের পাশে রাস্তার ধারে তাঁর নাম লেখা আছে।

সূত্র: সমকাল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়