শিরোনাম
◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে হারালো ব্রাজিল ◈ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়, থাকছে না উৎসে কর ◈ ১৬০ অর্থনীতিবিদের জরিপ: স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স ◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৬ সকাল
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ওপেক ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত : বিবিসির বিশ্লেষণ

সংযুক্ত আরব আমিরাত হঠাৎ করেই জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেই আমিরাত এই সংগঠনের সদস্য ছিল। বহু দশক ধরে ‘ওপেক’ তেলের উৎপাদন বাড়ানো-কমানোর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

এ বিষয়ে এক নিবন্ধে বিবিসির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম লিখেছেন—ওপেক জোটে উৎপাদনের দিক থেকে সৌদি আরব প্রভাবশালী দেশ হলেও, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে আমিরাত ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম। অর্থাৎ, বাজারে দাম কমাতে বা স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা তাদের ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওপেক-এর কোটা ব্যবস্থার কারণে আমিরাত প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনে সীমাবদ্ধ ছিল। এতে তাদের বিনিয়োগ অনুযায়ী পূর্ণ উৎপাদন করতে না পারায় রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ ছিল।

আমিরাতের সিদ্ধান্তের পেছনে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাত, আমিরাতের কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। ফলে ওপেক ছাড়ার এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

এখন প্রশ্ন উঠছে—এর ফলে বিশ্ব তেল বাজারে কী পরিবর্তন আসবে? ওপেক-এর বাইরে গিয়ে আমিরাত তাদের উৎপাদন দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নিতে পারে। এর জবাবে সৌদি আরব মূল্যযুদ্ধ শুরু করতে পারে, যা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী আমিরাত সামাল দিতে পারলেও অপেক্ষাকৃত দুর্বল ওপেক সদস্যদের জন্য কঠিন হবে।

এদিকে আমিরাত নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও করছে, যাতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পাঠানো যায়। বর্তমানে তাদের একটি পাইপলাইন চালু থাকলেও উৎপাদন বাড়লে আরও অবকাঠামোর প্রয়োজন হবে।

তবে বর্তমান বিশ্বে ওপেকের প্রভাব আগের মতো নেই। ১৯৭০-এর দশকে এই জোট বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন তা প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। তা ছাড়া বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। চীনের বৈদ্যুতিক যানবাহন ও রেলব্যবস্থায় বিনিয়োগ তেলের চাহিদা কমাতে ভূমিকা রাখছে।

এই প্রেক্ষাপটে আমিরাতের পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের জ্বালানি বাস্তবতার পূর্বাভাস হিসেবেও দেখা যায়—যেখানে তেলের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমবে। তাই এখনই সর্বোচ্চ উৎপাদনের মাধ্যমে লাভ তুলতে চায় তারা।

সব মিলিয়ে, আমিরাতের ওপেক ত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে বড় প্রভাব না ফেললেও ভবিষ্যতে তেল বাজারের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। উপসাগরীয় উত্তেজনা কমে গেলে এবং নতুন অবকাঠামো চালু হলে, ওপেকের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই আমিরাতের তেল প্রবাহ বৈশ্বিক বাজারে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়