শিরোনাম
◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৪৬ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

হয় তেলের বাজার উন্মুক্ত কর, নয়তো খেসারত দাও: ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।

আল জাজিরা: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও তেলের বাজার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে কখনোই বিনা মূল্যে নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব নয়। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আরেফ উল্লেখ করেন যে, একদিকে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে এবং অন্যদিকে ইরানের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হবে—এমন দ্বিচারিতা আর বরদাশত করা হবে না। 

রেজা আরেফ তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সামনে দুটি বিকল্প পথ খোলা থাকার কথা জানান। তার মতে, পছন্দটা এখন সুস্পষ্ট—হয় সবার জন্য তেলের বাজার উন্মুক্ত করে দিতে হবে, নয়তো জ্বালানি সংকটের ফলে সৃষ্ট বড় ধরনের খেসারতের ঝুঁকি নিতে হবে। 

তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা সফল হবে না এবং এর নেতিবাচক প্রভাব অন্য দেশগুলোকেও ভোগ করতে হবে। বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই শীর্ষ নেতার মন্তব্য বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের স্থিতিশীলতার বিষয়ে আলোকপাত করে ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও বলেন যে, তেলের মূল্যের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইরান ও এর মিত্রদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের অবসান ঘটার ওপর। 

আরেফ দাবি করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই চাপ নিশ্চিত ও টেকসইভাবে প্রত্যাহার করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। ইরান মনে করে যে, তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করাই বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই আল্টিমেটাম এমন এক সময়ে এল যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ সরবরাহ করা হয়। 

ইরান যদি এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে সরে আসে বা অবরোধ আরও কঠোর করে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আরেফের এই বক্তব্যকে একটি বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়