শিরোনাম
◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি ◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম ◈ লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ‘হাতাহাতি’র উপক্রম হয়েছিল বলে দাবি মার্কিন দূতের ◈ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ ঢামেক মর্গের ফ্রিজার এক সপ্তাহ ধরে অচল, ছড়াচ্ছে লাশ পচা গন্ধ ◈ বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুলছে মরিশাসের শ্রমবাজার ◈ এনসিটি পরিচালনায় প্রস্তাব দিল দুই এমপির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম ◈ জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত ◈ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা ◈ প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৫:২৮ বিকাল
আপডেট : ২৭ মে, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি বন্ধের গুজবে ভারতে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং ইরান স্ট্রেইট অব হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে— এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই আতঙ্কে অনেক জায়গায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে এবং তেল কেনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে মানুষকে।

দেশটির উত্তর প্রদেশ, বিহার, পাঞ্জাব, আসামসহ বিভিন্ন রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ কয়েকটি জেলায় পেট্রোল পাম্পে এমন ভিড়ের ছবি দেখা গেছে। অনেকেই আতঙ্কে গাড়ির ট্যাংক পুরোপুরি ভরে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার নতুন পানির ট্যাংক কিনে তাতে জ্বালানি তেল মজুত করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই মানুষের মধ্যে এই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই ভারতে তেল সংকটের সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের মজুতে প্রায় ২৫ দিনের জ্বালানি তেল রয়েছে। সংকট দেখা দিলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আলোচনা হচ্ছে।

তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আপাতত পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। যদি তেল পাওয়া না যায় বা হঠাৎ দাম বেড়ে যায়— এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই আগে থেকেই তেল কিনে রাখার চেষ্টা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, আসাম ও বিহারেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মানুষ গাড়িতে পুরো ট্যাংক ভর্তি করছেন, আবার কেউ কেউ ৫০০ থেকে এক হাজার লিটারের পানির ট্যাংক কিনে তাতে তেল সংরক্ষণ করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার মেটিয়াবুরুজ, মহেশতলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ এবং নদীয়া জেলাতেও ডিজেল কিনতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

নদীয়ার এক ক্রেতা জানান, যুদ্ধের কারণে ডিজেল পাওয়া যাবে না— এমন কথা শুনে তিনি চাষাবাদের জন্য ডিজেল কিনতে এসেছেন। ধান চাষের কাজে ডিজেল প্রয়োজন হওয়ায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু এখনও তেল পাননি।

এদিকে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অনেক পেট্রোল পাম্পেই জ্বালানি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। কলকাতার কয়েকটি পাম্পে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ‘তেল নেই’ বোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।

মেটিয়াবুরুজ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের এক কর্মী জানান, গত দুই দিনে ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। পেট্রোল এখনও পাওয়া যাচ্ছে, তবে সেটির বিক্রিও অনেক বেড়ে গেছে। আগে কখনও এত বেশি তেল বিক্রি হয়নি বলে জানান তিনি।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়