শিরোনাম
◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:০৭ বিকাল
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চীনে সন্ধান মিলল ২ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো চার লেনের আদি মহাসড়ক 'কিন স্ট্রেইট রোড'

চীনে ২ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক 'কিন স্ট্রেইট রোড' এর ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মানব ইতিহাসের অন্যতম বিশাল এই অবকাঠামোকে আধুনিক মহাসড়কের আদিরূপ বলা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, সড়কটি এতটাই প্রশস্ত ছিল যে সে সময় অনায়াসেই এতে চারটি লেনে যানবাহন চলাচল করতে পারত।

গত ৯ ডিসেম্বর চীনের শানসি প্রদেশের ইউলিন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এই আবিষ্কারের কথা জানায়। গত বছর থেকে ওই এলাকায় চালানো এক জরিপের ভিত্তিতে প্রাচীন এই মহাসড়কের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন গবেষকরা।

ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের নির্দেশে এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল এই সড়কের কাজ শেষ হয়েছিল মাত্র পাঁচ বছরে। 

খননকাজে মিলেছে উন্নত নির্মাণশৈলীর প্রমাণ। পাহাড় কেটে সোজা পথ তৈরি করা, মাটির ঢাল শক্ত করা এবং নিচু উপত্যকা ভরাট করে রাস্তা সমতল করার মতো আধুনিক কৌশল সেই আমলেই ব্যবহার করা হয়েছিল। সড়কটি গড়ে প্রায় ৪০ মিটার (১৩০ ফুট) থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত চওড়া ছিল।

মূলত 'শিওংনু' নামের এক যাযাবর দস্যু গোষ্ঠীর আক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যেই এই মহাসড়কটি তৈরি করা হয়েছিল। চীনের জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রশাসনের মতে, চীনের মহাপ্রাচীরের পর এটিই দেশটির প্রাচীনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা প্রকল্প। তৎকালীন কিন রাজবংশের রাজধানী শিয়ানিয়াং থেকে শুরু করে বর্তমান ইনার মঙ্গোলিয়ার বাওতু শহর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই পথ।

মরুভূমি এলাকায় যেখানে বনায়ন করা হয়েছে, সেখানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই রাস্তার রেখা শনাক্ত করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। খননকাজের সময় রাস্তার পাশে একটি 'রিলে স্টেশন' বা বিশ্রামাগারের সন্ধানও পাওয়া গেছে। সেখানে পাওয়া প্রাচীন সিরামিকের টুকরো থেকে এর সময়কাল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতিহাসবিদ সিমা কিয়ানের বর্ণনায় জানা যায়, ২১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সেনাপতি মেং তিয়ানের তত্ত্বাবধানে কয়েক লাখ সেনা ও সাধারণ মানুষের শ্রমে এই সড়ক নির্মিত হয়। তবে যে আক্রমণকারীদের ঠেকাতে এই বিশাল সড়ক তৈরি করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই পথই সাম্রাজ্যের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হলে যাযাবর দস্যুরা এই প্রশস্ত সড়ক ব্যবহার করেই চীনের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ত। এ কারণে ইতিহাসে অন্তত তিনবার হান রাজবংশের শাসনামলে এই সড়কের বিভিন্ন অংশ স্বেচ্ছায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

১৯৭৪ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রথমবারের মতো এই সড়কের একটি অংশ খুঁজে পান। নতুন আবিষ্কৃত এই ১৩ কিলোমিটার অংশ প্রাচীন চীনের প্রকৌশলবিদ্যা ও ইতিহাস বুঝতে গবেষকদের আরও সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়