শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী ◈ বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী ◈ আফগা‌নিস্তান নাজেহাল, একদিনেই দু’বার অলআউট করে ৩০০ রা‌নে টেস্ট জিতলো ভারত ◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪৪ সকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সোনার লোভে পাথর ভাঙার চেষ্টা, মিলল ৪৬০ কোটি বছরের মহাজাগতিক সম্পদ

অস্ট্রেলিয়ার মেলবার্নের কাছে মেরিবোরো রিজিওনাল পার্কে সোনা খুঁজতে গিয়েছিলেন ডেভিড হোল। ২০১৫ সালে হলদে মাটির নিচে লালচে রঙের অস্বাভাবিক ভারী একটি পাথর খুঁজে পান তিনি। ধারণা করেছিলেন, এর ভেতর লুকিয়ে আছে সোনার টুকরো।

সেই বিশ্বাসে পাথরটি বাড়িতে এনে বছর পর বছর চেষ্টা করেছেন সেটি ভাঙার—পাথর কাটার করাত থেকে ড্রিল, গ্রাইন্ডার, অ্যাসিড, এমনকি হাতুড়িও ব্যবহার করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই ভাঙতে পারেননি পাথরটি।

সোনা নয়, আরও দামী জিনিস!

মেরিবোরো অঞ্চলের অতীত সোনার খনি ইতিহাসের কারণে হোল নিশ্চিত ছিলেন—এটি সোনায় ভরা। কিন্তু বহু বছর পর বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়—ওটি সোনা নয়, বরং বিরল একটি লোহা-নিকেলের উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীদের মতে, এর মূল্য সোনার চেয়ে অনেক বেশি—জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসের জন্য অমূল্য সম্পদ।

মেলবার্ন মিউজিয়ামের ভূতত্ত্ববিদ ডারমট হেনরি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এর বাইরের দিকে খাঁজকাটা ও দাগযুক্ত যে চেহারা, তা সাধারণ পাথরের হয় না। উল্কাপিণ্ড যখন মহাকাশ থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, বাইরে গলে গিয়ে এমন আকার তৈরি হয়।”

বছরের পর বছর ভাঙতে না পারলেও কৌতূহল থেকে হোল শেষ পর্যন্ত পাথরটি নিয়ে যান মেলবার্ন মিউজিয়ামে।

হেনরি বলেন, “৩৭ বছরের চাকরিজীবনে হাজারো পাথর দেখেছি, যেগুলো মানুষ উল্কাপিণ্ড মনে করে এনেছেন। তার মধ্যে মাত্র দুটো আসল ছিল—এটি তার একটি।”

১৭ কেজি ওজনের মহাজাগতিক অতিথি

পাথরটি হাতে নিয়ে মিউজিয়ামের আরেক ভূতত্ত্ববিদ বিল বার্চ বলেন, “এ ধরনের পাথর যদি সত্যিই পৃথিবীর হতো, তবে এত ভারী হওয়ার কথা নয়।”

গবেষকেরা পরে পাথরটির আনুষ্ঠানিক নাম দেন ‘মেরিবোরো উল্কাপিণ্ড’—যে শহরের কাছ থেকে এটি পাওয়া গেছে। ওজন প্রায় ১৭ কেজি। গবেষণায় জানা যায়, এটি একটি H5 ordinary chondrite—অর্থাৎ প্রচুর লোহা-সমৃদ্ধ প্রাচীন উল্কাপিণ্ড।

হিরার করাত দিয়ে ছোট একটি অংশ কাটার পর দেখা যায় এর ভেতরে রয়েছে সূক্ষ্ম স্ফটিককণা—‘কন্ড্রিউলস’—যা প্রাচীন সৌরজগতের উল্কাপিণ্ডগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

সৌরজগতের জন্মকাহিনির সাক্ষী

বিজ্ঞানী হেনরি বলেন, “উল্কাপিণ্ডই হলো সবচেয়ে সস্তা মহাকাশ অনুসন্ধান। এগুলো আমাদের সময়ের গোড়ায় নিয়ে যায়—সৌরজগত, এমনকি পৃথিবী কীভাবে গঠিত হয়েছে, তার সূত্র দেয়।”

তিনি আরও জানান, অনেক উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর গভীরতম অংশের গঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়। আবার কিছু উল্কাপিণ্ডে থাকে সৌরজগতেরও আগের ‘তারার ধূলিকণা’, যা দিয়ে বোঝা যায়—কীভাবে নক্ষত্র তৈরি হয় এবং কীভাবে মৌল উপাদানগুলো জন্ম নেয়।

আরও বিস্ময়ের বিষয়—কিছু বিরল উল্কাপিণ্ডে পাওয়া যায় অ্যামাইনো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন জৈব অণু—যেগুলো জীবন সৃষ্টির ভিত্তিমূল।

বিজ্ঞানীদের মতে, সোনার চেয়েও মূল্যবান এই উল্কাপিণ্ড মানবজাতিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সৌরজগতের জন্ম-মুহূর্তে—৪৬০ কোটি বছর আগে।

সূত্র: এনডিটিভি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়