শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪৮ সকাল
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২১ বা ২২ ক্যারেট নয়, ভারত এখন ৯ ক্যারেট সোনায় ঝুঁকছে

ভারতের সোনার বাজারে নতুন এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এখন এক ভরি ৯ ক্যারেট সোনা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৩,৭৮৪ রুপিতে। তুলনা করুন বাংলাদেশে এক ভরি সোনার দাম প্রায় ২ লক্ষ ১৪,০০০ টাকার মধ্যে। হ্যাঁ, এটি ভারত সরকারের অনুমোদনে সম্ভব হয়েছে। কারণ তারা ৯ ক্যারেট সোনা সক্রিয়ভাবে প্রচার করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ হলো সোনার ক্রমবর্ধমান দাম, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ক্রয়যোগ্যতা কমিয়ে দিয়েছে। ২৪ বা ২২ ক্যারেটের সোনা এখন লাক্সারি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সহজে তা কিনতে পারছে না।

৯ ক্যারেট সোনার বৈশিষ্ট্য ও জনপ্রিয়তা

নয় ক্যারেট সোনায় থাকে মাত্র ৩৭.৫% খাঁটি সোনা, বাকিটা তামা, রুপা ও অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণ। এতে সোনা টেকশই, সাশ্রয়ী এবং আধুনিক ডিজাইনে আকর্ষণীয় হয়। ৩% জিএসটি যোগ করলে খুচরা মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫,৫০০ রুপি প্রতি ভরি।

এর তুলনায় ২২ ক্যারেট সোনা ১ লাখ ৫০ হাজার রুপিরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য ৯ ক্যারেট সোনা হয়ে উঠেছে বাস্তবসম্মত বিকল্প। সম্প্রতি ভারতের ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও নয় ক্যারেট সোনার হলমার্কিং অনুমোদন দিয়েছে।

ব্র্যান্ডের দৃষ্টি ও নতুন সুযোগ

জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন জুয়েলবক্স, সেনকো গোল্ড, এবং শ্রদ্ধা কাপুরের ব্র্যান্ড পালমোনাস এখন এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। জুয়েলবক্সের প্রতিষ্ঠাতা বিধিতা কোচার বলেন, “দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলে ১৮ বা ২২ ক্যারেট সোনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নয় ক্যারেট সোনার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য টেকশই এবং আকর্ষণীয়।”

সেনকো গোল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভঙ্কর সেন জানান, “নয় ক্যারেট সোনায় আধুনিক নকশা তৈরি সহজ। ডিজাইন ইনোভেশনের সুযোগ বেশি।”

ব্র্যান্ডগুলো ল্যাবগ্রোন ডায়মন্ডের সঙ্গে ৯ ক্যারেট সোনা যুক্ত করে ১০–২০ হাজার রুপিতে স্টাইলিশ গয়না তৈরি করছে। ফলে জেনজিস ও মিলেনিয়াল ক্রেতারা কম খরচে পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক গয়না কিনতে পারছে।

বিশ্ববাজারে সোনার নতুন বাস্তবতা

ভারত ও চীন বিপুল পরিমাণ সোনা মজুদ করার কারণে, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য কম ক্যারেট সোনা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগের জন্য এখনও খাঁটি সোনা ক্রয় করা হয়, কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এখন ৯ বা ১৪ ক্যারেট সোনা ব্যবহারিক বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, “তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন আর সোনার মান নির্ভর করছে শুধু বিশুদ্ধতার উপর নয়, বরং ব্যবহারের সুবিধা, ডিজাইন ও মূল্যের ভারসাম্যের উপর।”

ফলে ভারতীয় সোনার বাজারে পুরনো সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। এক সময় যেখানে নিয়ম ছিল, ‘যত বিশুদ্ধ তত মূল্যবান,’ সেখানে এখন নতুন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে: যত ব্যবহারযোগ্য, তত জনপ্রিয়।

নতুন এই প্রবণতা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী গয়নার সংস্কৃতিতে যোগ করেছে ব্যবহার-কেন্দ্রিক ও বাস্তবমুখী অধ্যায়।

সূত্র: জনকণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়