শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:২১ সকাল
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বভ্রমণে ১২ দেশ পেরিয়ে ইন্দোনেশিয়াতেই খুঁজে পেলাম শান্তি

হেঁটে বিশ্ব দেখতে বের হওয়ার ৬০০ দিন পার করলাম সম্প্রতি। এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ ছাড়া এখন পর্যন্ত আমি হেঁটে পেরিয়েছি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া। এত দেশ ঘোরার পর এখন যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, প্রিয় দেশ কোনটি? নিঃসন্দেহে বলব, ইন্দোনেশিয়া।

ভিন্ন এক অনুভূতি এই দেশে

প্রতিটি দেশের নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া একেবারে আলাদা। এখানকার দ্বীপ, সংস্কৃতি, ভাষা, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিবেশ—সব মিলিয়ে দারুণ লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা, এখানকার মানুষের আন্তরিকতা অসাধারণ। আমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় ইন্দোনেশিয়ার মানুষই সবচেয়ে অতিথিপরায়ণ। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় সহজে, যেকোনো সাহায্য চাইলে তারা আন্তরিকভাবে করে। অনেক জায়গায় শুধু ট্যুরিস্ট শুনে তারা খাবারের দাম পর্যন্ত নেয়নি। কেউ আমার যাত্রার গল্প শুনে উৎসাহ দিয়েছে। কেউ আবার বলেছে, ‘তুমি আমাদের দেশের সম্মান বাড়াচ্ছ।’ এই ভালোবাসা আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে গেছে।

শহর নয়, গ্রামের পথে

আমি সাধারণত ট্যুরিস্ট জায়গাগুলো এড়িয়ে চলি। কারণ, হেঁটে ভ্রমণ মানেই হলো প্রকৃত জীবনের সঙ্গে মিশে যাওয়া। তাই শহরের চেয়ে গ্রামই বেশি ভালো লাগে। ইন্দোনেশিয়ার গ্রামের পথ ধরে হাঁটার সময় সে দেশের অধিবাসীদের জীবনধারা, পরিশ্রম, হাসি, সরলতা কাছ থেকে দেখেছি। ছোট দোকানে বসে চা খেতে খেতে গ্রামের মানুষের গল্প শুনেছি, তাদের সংস্কৃতি দেখেছি, তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশেছি। গ্রামের মানুষগুলো সত্যিই আলাদা। কেউ কাজের ফাঁকে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, কেউ ছবি তুলতে চেয়েছেন, কেউবা কৌতূহল নিয়ে জানতে চেয়েছেন, আমি এত দূর কেন হেঁটে চলেছি। তাঁদের হাসি আর আন্তরিকতা আমার এই যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।

সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা

ইন্দোনেশিয়ার মানুষের জীবনযাপন খুব ভালো লেগেছে। এখানে মানুষ খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে এবং এশার নামাজের পরপরই ঘুমিয়ে যায়। তাদের এই নিয়মিত জীবন যাপন করা, সময়ের মূল্য বোঝা, কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

আবার যেতে চাই

ইন্দোনেশিয়ার গ্রামগুলোর সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমার মনে এক গভীর টান সৃষ্টি করেছে। তাদের আন্তরিকতা, আতিথেয়তা অতুলনীয়। আমি সত্যিই চাই আবার একদিন ইন্দোনেশিয়ায় ফিরতে। বিশেষ করে গ্রামের পথে। সেখানে মানুষ হাসিমুখে অতিথিকে এখনো স্বাগত জানায় এবং সরলতা এখনো টিকে আছে।

৬০০ দিনের এই যাত্রায় আমি বুঝেছি, ভ্রমণ মানে শুধু স্থান পরিবর্তন নয়, এটা বৃহৎ অর্থে মানুষ চেনা, সংস্কৃতি বোঝা। নিজের ভেতরের নতুন এক দিক উন্মোচনের পথ এটি। আর ইন্দোনেশিয়া আমার সেই পথের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া অধ্যায়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়