শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৪:০৩ দুপুর
আপডেট : ২৮ মে, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

থাইল্যান্ডে শ্রম সংকট: বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

শ্রম সংকট মোকাবিলায় বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। এর অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথম ধাপে ১০ হাজার শ্রমিক আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন থেকেও শ্রমিক আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে।

থাইল্যান্ডের কৃষি, নির্মাণ ও মৎস্যশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেশী মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস থেকে আসা শ্রমিকরাই এ খাতের মূল শক্তি। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত কম্বোডিয়ার শ্রমিক ছিলেন ৫ লাখ ৬০৬ জন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুমান করছে, আরও প্রায় ৫ লাখ নিবন্ধনবিহীন কম্বোডিয়ার থাইল্যান্ডে কাজ করছেন।

কিন্তু গত ২৪ জুলাই থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিজ দেশে ফিরে যান। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক লাখ শ্রমিক দেশ ছেড়েছেন। এতে শিল্পখাতে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী পংকাভিন জুয়াংরুয়াংকিত জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা এখনই ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি শ্রীলঙ্কান থাইল্যান্ডে কাজের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তবে ক্যাবিনেট বৈঠকের সারসংক্ষেপে স্পষ্ট উল্লেখ আছে—বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশি শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার শ্রমবাজারে কাজ করছেন। তুলনামূলক ভালো মজুরি ও কর্মপরিবেশ থাকলেও থাইল্যান্ড এখনো বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় গন্তব্য হয়ে ওঠেনি। তবে বর্তমান সংকট নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশটির বেকারত্বের হার ছিল মাত্র দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটিতে স্থানীয় শ্রমিকের অভাব রয়েছে। থাইল্যান্ড চেম্বার অব কমার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আনুসর্ন তামাজাই বলেন, ‘থাইল্যান্ডের শ্রমনির্ভর শিল্প বিদেশি শ্রমিক ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। কিন্তু দেশটি এখন বার্ধক্যজনিত সমাজে প্রবেশ করছে, ফলে শ্রম ঘাটতি আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে হলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। কারণ, এসব দেশে মজুরি ও কর্মপরিবেশ অনেক ভালো। নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনার জানালা হলেও সরকারিভাবে উদ্যোগ না নিলে সুযোগ কাজে লাগানো কঠিন হবে।

অভিবাসী অধিকার সংগঠন মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সমন্বয়ক আদিসর্ন কের্ডমংকল জানিয়েছেন, এখনো পরিষ্কার নয় থাইল্যান্ড সরকার কোন খাতে শ্রমিক নেবে এবং কীভাবে তাদের আনা হবে। দূরবর্তী দেশ থেকে শ্রমিক আনতে বিমান ভ্রমণের খরচও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা ইতিবাচক হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রমিকদের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তথ্যসূত্র: নিক্কেই এশিয়া

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়