শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৩২ বিকাল
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘হোয়াইট প্লেগ’-এর পুনরুত্থান: নতুন করে হুমকিতে বিশ্ব

মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘাতক হিসেবে পরিচিত ‘হোয়াইট প্লেগ’ বা যক্ষ্মা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে হানা দিয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে দেশটিতে যক্ষ্মার সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে এটি বিশ্বের এক নম্বর সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে।

আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে যক্ষ্মার চেয়ে কোভিড-১৯-এ মৃত্যু ছিল বেশি। তবে ২০২৩ সালে যক্ষ্মা আবারও বিশ্বের শীর্ষ সংক্রামক ঘাতক হিসেবে কোভিডের জায়গা দখল করেছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক প্রিয়া শেঠি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মার ঝুঁকি কমাতে না পারলে এটি সব জায়গায়ই দেখা দেবে। এমনকি যেখানে আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি, সেসব স্থানেও যক্ষ্মা হানা দিতে শুরু করবে।’

যক্ষ্মা কী এবং এর লক্ষণসমূহ

যক্ষ্মা মূলত বায়ুবাহিত রোগ, যা ‘মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস’ নামের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশলে, হাঁচি দিলে বা কথা বললে বাতাসের ক্ষুদ্র ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি অন্যকে সংক্রমিত করে। এটি ফুসফুসে আক্রমণ করলেও শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত বা কফ বের হওয়া, জ্বর, রাতে ঘাম হওয়া, ওজন কমে যাওয়া ও অবসাদ যক্ষ্মার লক্ষণ। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বিশেষ করে, ডায়াবেটিস বা এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত এবং যাঁরা জনাকীর্ণ পরিবেশে বসবাস করেন, তাঁরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার ৩০০ জনের বেশি যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। ২০১১ সালের পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড। করোনাপরবর্তী ভ্রমণ ও অভিবাসন বৃদ্ধি, বিভিন্ন রাজ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব এবং জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যক্ষ্মার লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ ফ্লু বা আরএসভির মতো মনে হওয়ায় চিকিৎসায় দেরি হয়ে যায়। সঠিক চিকিৎসা না করালে এই রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে এটি অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য।

এই রোগের চিকিৎসা সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাস স্থায়ী হয়। ওষুধ মাঝপথে বন্ধ করলে ব্যাকটেরিয়া ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের চিকিৎসক ড. কোহতা সাইতো জানান, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কারণে অনেক সময় মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা রোগীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য বিসিজি টিকা দেওয়া হয়, যা সাধারণত যক্ষ্মাপ্রবণ এলাকাগুলোয় বেশি ব্যবহৃত হয়। স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক ড. লুসিকা দিতিউ বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশই এখনো যক্ষ্মামুক্ত হতে পারেনি। যতক্ষণ আমরা শ্বাস নিচ্ছি, ততক্ষণই আমরা ঝুঁকিতে আছি।’ সংক্রমণ কমাতে মাস্ক পরা, ভেন্টিলেশন উন্নত করা এবং নিয়মিত পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়