শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৫:২৯ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মস্তিষ্কের ‘নীরব কোষ’ অ্যাস্ট্রোসাইট—আচরণ থেকে ঘুমের ছন্দ, সবকিছুতেই গভীর প্রভাব

মস্তিষ্কের এক-চতুর্থাংশ দখল করে থাকা অ্যাস্ট্রোসাইট নামের নীরব কোষগুলো আসলে আমাদের আচরণ, স্মৃতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের নিভৃত নিয়ন্ত্রক। 

দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, মস্তিষ্কের সব ধরনের কার্যক্রমের নায়ক এবং নিয়ন্ত্রক শুধু নিউরন। বাকিগুলো নাকি সহায়ক কোষ। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, মস্তিষ্কের এক-চতুর্থাংশ দখল করে থাকা অ্যাস্ট্রোসাইট নামের নীরব কোষগুলো আসলে আমাদের আচরণ, স্মৃতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের নিভৃত নিয়ন্ত্রক।

বিখ্যাত সাময়িকী নেচার-এ বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা যায়, আগে যেসব অ্যাস্ট্রোসাইটকে ‘সমর্থনকারী কোষ’ বলা হতো, সেগুলোই এখন মস্তিষ্কবিষয়ক বিজ্ঞানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গবেষকেরা বলছেন, নিউরন তথ্য প্রেরণ করলেও অ্যাস্ট্রোসাইট সেই তথ্যের গতি, শক্তি ও প্রভাব সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

উনিশ শতক থেকেই বিজ্ঞানীরা জানতেন মস্তিষ্কে দুই ধরনের প্রধান কোষ আছে-নিউরন ও গ্লিয়া। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে গত শতাব্দীজুড়ে গবেষণা কেন্দ্রীভূত ছিল শুধু নিউরন নিয়েই। গ্লিয়া-বিশেষ করে অ্যাস্ট্রোসাইট-অধিকাংশ সময় উপেক্ষিতই থেকেছে। 

নতুন ক্যালসিয়াম ইমেজিং প্রযুক্তি দেখায়, অ্যাস্ট্রোসাইটও নিজেদের মধ্যে এবং নিউরনের সঙ্গে ক্যালসিয়াম সংকেতের মাধ্যমে ধীরগতির যোগাযোগ করে। এই সংকেতগুলো নিউরনের পরিবেশ বদলে দেয়, নিয়ন্ত্রণ করে আয়ন, নিউরোট্রান্সমিটার ও বিপাকীয় উপাদানের ঘনত্ব। ফলে নিউরন কখন সক্রিয় হবে-তাও অনেকাংশে অ্যাস্ট্রোসাইটের সিদ্ধান্ত। উন্নত মাইক্রোস্কোপি দেখিয়েছে, প্রতিটি অ্যাস্ট্রোসাইট হাজারো শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে দুই মিলিয়ন পর্যন্ত সিন্যাপসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক গবেষণায় আবিষ্কার করেছেন, মস্তিষ্কের ‘মাস্টার ক্লক’ বা সুপ্রাকিয়াজম্যাটিক নিউক্লিয়াস (এসএনসি) অ্যাস্ট্রোসাইটের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ২৪ ঘণ্টার ছন্দ ধরে রাখতে পারে না। অ্যাস্ট্রোসাইট দিনের বেলায় গাবা/জিএবিএ শোষণ বাড়ায় এবং রাতে কমায়-এই ওঠানামাই ঘড়ির ছন্দ স্থির রাখে। 

এ ছাড়া ইসরায়েল ও জাপানের গবেষকেরা দেখিয়েছেন, পুরস্কারের স্থান স্মরণ এবং ভীতির স্মৃতি ধরে রাখা-উভয় ক্ষেত্রেই অ্যাস্ট্রোসাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিউরনের দ্রুত সংকেত মিলিসেকেন্ডে শেষ হলেও অ্যাস্ট্রোসাইটের ধীর সংকেত ঘণ্টা বা দিনজুড়ে সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে শেখা ও স্মৃতির ফাঁকটি পূরণে এগুলো আদর্শ।

নিউরনভিত্তিক যত রোগ-আলঝেইমার, পারকিনসন থেকে শুরু করে মানসিক অবসাদ-সব ক্ষেত্রেই এখন প্রশ্ন উঠছে: অ্যাস্ট্রোসাইট কি এদের চালক বা সহচর? বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্ক বোঝার দরজা নতুন করে খুলছে। এবার মনোযোগ বেড়েছ সেই নীরব কোষগুলোর ওপর, যাদের গুরুত্ব এতদিন আমরা দেখতে পাইনি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়