শিরোনাম
◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৪২ দুপুর
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বর্ষায় গো-খাদ্যের ভরসা যমুনার চর, ঘাসের হাটে মিলছে কৃষকের স্বস্তি

শাহীন খন্দকার: প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়ে থাকে। খাদ্য সংকটে বিশেষ করে গরু-ছাগল পালনে চাষীরা বিপাকে পরেন। বাড়ীর চারিপাশে পানি থাকায় কৃষক গরু ছাগলের চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে পারেন বলে জানান, গোবিন্দাসী খানুড়বাড়ী এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আকন্দ।

তিনি বলেন ২০১০ সাল থেকে আবার কেউ কেউ বলেছেন ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে গোবিন্দাসী বাজারসহ পূর্ণবাসন এলাকায় ঘাসের হাট বসছে। পূর্ণবাসন ঘাসের হাটের বিক্রেতা আব্দুল বাসেত বলেন, একদিকে বর্ষাকাল টানাবৃষ্টির কারনে কোন কাজ না থাকায় যমুনা নদী ভাঙ্গনের ফলে প্রতি বছর চর জেগে উঠছে।
জেগে উঠা চরে বর্ষায় কোন ফসল না হওয়ায় প্রচুর ঘাস-আগাছা, কাইশাবনে ছেয়েযায় চর।

তাই বছর ধরেই কমবেশী সংগ্রহ করে বেচাকেনা হয়। ক্রেতা আব্দুল করিম ডাক্তার জানিয়েছেন, বৃস্টি হলেই গো-খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। তখন নির্ভর হতে হয় এই ঘাসের হাটে। তিনি বলেন, তার রয়েছে ৪টি দুধেল গাভীসহ ৬টি গরু এবং ৬ টি ছাগল। খড়ের সঙ্গে কাচাঁঘাস কেটে সঙ্গে খৈল, ভুসি, মসুর, ফিড, খেতে দিতে হয় ওষুধ। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় গ্রামের মানুষেরা বিকল্প খাদ্য হিসাবে বেছে নিয়েছে চরের ঘাস।

প্রতি বোজা ঘাসের দাম নিচ্ছে ১০০-২০০ টাকা দরে। সেই সঙ্গে আটি বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা দরে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ৪টি গরু থেকে প্রতিদিন দুধ আসে ৪২ কেজী। বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি দামে। ঘাস ব্যাবসায়ী আরিফ আকন্দ বলেন, তাদের নিকট থেকে ঘাস সংগ্রহ করেন, আশ-পাশের গ্রামের গরু-ছাগলের খামারীরাসহ গোবিন্দাসী হাটের গরু ব্যবসায়িরাও।

তবে কোরবানীর ঈদে রমরমা ব্যবসা হয় বলে জানিয়েছেন ঘাস ব্যবসায়িরা। উল্লেখযোগ গ্রাম গুলো হচ্ছে বাগবাড়ী, নিকরাইলসহ দূরদূরান্তের গরু-ছাগলের পাইকাররা এসে নিয়ে যায়। এছাড়াও গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও মধুপুরের খামারীরা বর্ষা মৌসুমে ঘাস ভূঞাপুর থেকে এসে নিয়ে যায়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘাস মুলত তারা ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বিভিন্ন চর থেকে সংগ্রহ করেন।

উল্লেখ্যযোগ্য চরগুলো হচ্ছে, নলছিয়ার-চর, কোণাবাড়ী বাইস্তার-চর, গোপলগঞ্জ চর থেকে। ঘাস ব্যাবসীয়রা আরো জানিয়েছেন, প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা ৫০০-১০০০ টাকা করে আয় করেন। এতে তাদের সংসার ভালো-ই চলে যাচ্ছে। তবে বৃষ্টি যতো বেশী হবে ঘাসের চাহিদা ততোধিক থাকে।

কারন বৃস্টিতে কৃষকেরা গরু মাঠে নিয়ে যেতে পারেনা,তখন গোয়ালঘরেই গরু-খাসিকে খাবার দিতে হয়। কৃষক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, জৈষ্ঠ্য আষাঢ়ে ঘাসের সঙ্গে আম-কাঠাঁলের ঘোসা খাসের পাশাপাশি খাওয়ালে দুধ বেশী পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চাল থেকে লবণ সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়াতে কষ্টেই দিন যাচ্ছে।

খানুরবাড়ি বাজারে ব্যবসায়ীরা বলেন, এই ব্যবসার সঙ্গে প্রায় ৫০ জন জড়িত। এই গো-খাদ্য ব্যবসায় তাদের কোন অর্থ লগ্নি করতে হয়নি। শুধু শ্রম দিলেই টাকা! কারণ সর্ম্পকে বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস হচ্ছে তাই টাকা দিয়ে আনতে হয় না হলেও ভয় থাকে, অনেক সময় ঝড়বৃষ্টি হলে যমুনা নদীতে নৌকা পাড়ি দিয়ে আসার পথে অনেক সময় বাতাসে আর পানির ঢেউয়ে নৌকা তলিয়ে যায়। সেই সময়ে ঘাস  যমুনায় তলিয়ে যায় এবং কোন রকম সাতরিয়ে তীরে ফিরে আসা হয়।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি  সরকার ইচ্ছে করলে ভূঞাপুর উপজেলায় বিভিন্ন চরে গরুর খামার রাষ্ট্রিয় ভাবে করলে সরকার যেমন লাভবান হবেন। তেমনি স্থানীয়ভাবে দুধের চাহিদা পুরণ হবে। বেকারত্বের হাত থেকে চরের নারী-পুরুষেরা মুক্তি পাবে। রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এই অঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে শত শত গরুর খামার।

বর্তমানে প্রতিটি চরেই গবাদিপশু থেকে উৎপাদিত দুধ স্থানীয়ভাবে চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। চরের মাটি শুধু যমুনায় ভাঙেনা, চরের বালিমাটিতে ফসলও হয় ভালো কৃষক প্রতি বছর চওে গরু-ছাগল লালনপালন করে কোরবানীর ঈদে বিক্রি করে উর্পাজন কওে অর্থ। তাই চরে যদি রাষ্ট্রিয়ভাবে খামার গড়ে উঠে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে ভুমিকা রাখবে তারা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়