শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২৬, ০৫:৪১ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্বকে যে সতর্কবার্তা দিচ্ছে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। ফলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়া অঞ্চলে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ্বালানি সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে এশিয়ায় এখন তৈরি হয়েছে দুই ভিন্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতা। একদিকে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত অর্থনীতিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উচ্চ প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। 

অন্যদিকে জ্বালানি সংকট, জ্বালানির ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপে অনেক উন্নয়নশীল দেশ গভীর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে পড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এশিয়াজুড়ে এই বৈষম্য শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতিকেই প্রভাবিত করছে না; বরং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য, মুদ্রানীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও বড় ধরনের সতর্কসংকেত হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এশিয়াই প্রথম ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। তবে এই প্রভাব সব দেশের ক্ষেত্রে সমান নয়।

পূর্ব এশিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত অর্থনীতি- যেমন: জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ান- তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এসব দেশের বড় জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং উচ্চমূল্য দিয়েও অতিরিক্ত তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করার আর্থিক সক্ষমতা আছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাত, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসা তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করছে।

অন্যদিকে ভারত, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো বেশি চাপে পড়েছে। এসব দেশের অর্থনীতি মূলত প্রচলিত উৎপাদনশিল্প, পরিবহন ও সেবাখাতনির্ভর। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতিকে “কে-আকৃতির অর্থনীতি (K-shaped economy)” নামে অভিহিত করছেন। এই ধারণাটি প্রথম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে কোভিড-১৯ মহামারির সময়, যখন দেখা যায় ধনী ও প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ালেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট একই ধরনের বৈষম্য আরও তীব্র করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিশালী অর্থনীতিগুলো সংকট মোকাবিলায় বেশি সক্ষম হলেও জ্বালানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি, খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক অসন্তোষও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এশিয়ার এই বিভক্ত অর্থনৈতিক বাস্তবতা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উৎপাদন ও রফতানির বড় অংশ এখনও এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলের জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে- জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ছাড়া ভবিষ্যতের বড় সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সূত্র: সিএনএন

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়