শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৪ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে কোটি টাকার ঋণে খেলাপি হার বেড়ে ৩১.২০ শতাংশ, ব্যাংকিং খাতে উদ্বেগ

দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের ঋণে খেলাপির হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোটি টাকার বেশি ঋণসংবলিত অ্যাকাউন্টে খেলাপি ঋণের হার ৩১ দশমিক ২০ শতাংশ। এক বছর আগে একই সময়ে এ হার ছিল ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর মানে দাঁড়ায় এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে কোটি টাকার বেশি ঋণসংবলিত অ্যাকাউন্টে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে ঋণ শ্রেণিকরণে নতুন নীতিমালা চালুর পর থেকেই প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ শ্রেণিকরণের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে কোনও ঋণ ১৮০ দিন অনাদায়ী থাকলে তা খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হতো। নতুন নীতিমালায় সেই সময়সীমা কমিয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে। এই কঠোর মানদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর থেকেই গত বছর থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।”

তবে, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের হার কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে এই হার ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতি সহায়তা এবং ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা দেওয়ায় এ সামান্য কমতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ঋণ ‘মন্দ মানে’ শ্রেণিকৃত হওয়ার পরই তা অবলোপন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে এ জন্য টানা দুই বছর অপেক্ষা করতে হতো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নীতি সহায়তার সুযোগে বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। ফলে একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্ক সাময়িকভাবে খেলাপি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তা না হলে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারতো।


ব্যাংকারদের মতে, গত দেড় বছরে খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো এতদিন আড়ালে থাকা ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসা। অতীতে বিভিন্ন কৌশলে অনাদায়ী ঋণ নিয়মিত হিসেবে দেখানোর সুযোগ ছিল, যা এখন অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি অডিট ফার্মের মাধ্যমে কয়েকটি ব্যাংকের সম্পদ যাচাইয়ের ফলে প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পাচ্ছে।

বিশেষ করে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিগত দেড় দশকে ব্যাংক খাতে যেসব অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিফলন এখনকার খেলাপি ঋণের চিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও হলমার্ক গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিপুল অঙ্কের ঋণ বর্তমানে খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়