সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারে অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে রূপবাহার নামে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গপাড়া এলাকার পাহাড়ি এলাকা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার আরবি হোসেন (৫) কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের ছেলে। আটক রূপবাহার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রূপবাহার গত চারদিন আগে তার কারাবন্দি স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে আসেন। ওই সূত্রে কারাগারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে তিনি রাতযাপন করেন। পরদিন সুযোগ বুঝে সাদ্দাম হোসেনের ছেলে আরবি হোসেনকে নিয়ে মহেশখালীতে চলে যান।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানায়, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে মহেশখালী ও কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ টিম বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গপাড়া পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এসময় অভিযুক্ত নারীকে আটক করে।
শিশুটির মা সুমি আক্তার জানান, অপহরণের পর শিশুটিকে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিন দফায় ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন এবং টাকা না দিলে শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
এদিকে ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দুই পক্ষের বক্তব্য ও আচরণে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
আটক রূপবাহারের দাবি, শিশুটির বাবা তাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফেরত চাইলে তিনি দিতে রাজি না হওয়ায় শিশুটিকে অপহরণ করেছেন তিনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, উদ্ধার শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আটক রূপবাহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।