শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ গাছের ব্যবসা, সবুজ স্বপ্নে মেতে উঠছেন মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণভাবে ফুল, ফল ও শৌখিন গাছ বিক্রির কার্যক্রম। একসময় এসব গাছ মূলত ভ্যানে করে বিক্রি হলেও এখন মিনি পিকআপে সাজিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের গাছের চারা। এতে যেমন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও সহজেই নিজের পছন্দের গাছ কিনে বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগান সাজানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের আলিপুর মোড়ে দেখা যায়, একটি মিনি পিকআপে করে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ বিক্রি করছেন মো. রোশন নামের এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। পুরো পিকআপজুড়ে ছিল রঙিন গোলাপ, ক্যাকটাস, বনসাই, ঝাউগাছ, মানিপ্ল্যান্ট, বারোমাসি ফুলগাছসহ নানা ধরনের শৌখিন গাছের সমাহার। পাশাপাশি ফলের চারার মধ্যেও ছিল পেয়ারা, মালটা, কমলা, সফেদা, পেঁপে, করমচা ও লেবুর গাছ।

গাছ বিক্রেতা মো. রোশন জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিনি গাছ বিক্রি করেন। মানুষের মধ্যে এখন গাছ লাগানোর আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অনেকে বাড়ির ছাদে বাগান করছেন, আবার কেউ কেউ শখ করে বাসার বারান্দা সাজাচ্ছেন। তাই ফুল ও ফলের গাছের চাহিদাও বাড়ছে।”

তিনি আরও জানান, তার কাছে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ গাছ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাসের দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, ঝাউগাছ ২০০ টাকা এবং গেলপ্রিনিয়া বারোমাসি ফুলগাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও ৭ থেকে ৮ প্রজাতির গোলাপের চারা রয়েছে, যেগুলোর দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্তমানে পরিবেশ দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষ গাছ লাগানোর গুরুত্ব বেশি উপলব্ধি করছেন। বিশেষ করে শহরের মানুষ এখন ছাদবাগান ও ইনডোর প্লান্টের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছের দোকান তাদের কাছে বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাজার করতে বেরিয়ে সহজেই প্রয়োজনীয় গাছ কিনে নিতে পারছেন।

ক্রেতা শাহিনুর রহমান বলেন, “আগে নার্সারিতে গিয়ে গাছ কিনতে হতো। এখন বাসার কাছেই বিভিন্ন ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময়ও বাঁচছে, আবার পছন্দমতো গাছও সহজে পাওয়া যাচ্ছে।”

তবে বিক্রেতাদের দাবি, মানুষের আগ্রহ বাড়লেও বর্তমানে শহরে লোকসমাগম কিছুটা কম থাকায় বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তারপরও প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

পরিবেশবিদদের মতে, শহরে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছ বিক্রির উদ্যোগ সবুজায়ন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের পরিবেশও ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়