শিরোনাম
◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা  ◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৫৯ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

ফয়সাল চৌধুরী : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের বড় ভাই নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক রাশেদ শেখ (৩৫) তিনি ওই এলাকার রবিউল শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন মশারি ব্যাবসায়ী। ঘটনার পর থেকে তাঁর ছোট ভাই জহুরুল ইসলাম (২৪) পলাতক রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। রাশেদ বরিশালে ফেরি করে মশারি বিক্রি করতেন। গতকাল রাতে তিনি বাড়িতে আসেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ঘরের বারান্দায় বসে ছিলেন।

এ সময় হঠাৎ ছোট ভাই জহুরুল ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর ঘাড়, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এরপর ঘরে তালা লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা রাশেদকে উদ্ধার করে রাত দুইটার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ বিশিষ্ট  জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

 নাম প্রকাশ করা না সত্ত্বে স্থানীয় একজন জানান,'ছোট ভাই জহুরুল ইসলাম মাদকাশক্ত ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত রাতে রাশেদ বহিরাগত লোক বাড়িতে নিয়ে এসে মাদক সেবন করছিল। এ বিষয়ে ছোট ভাই জহুরুল প্রতিবাদ করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটা কাটি হয়। এরপর রাশেদকে খুন করে ছোট ভাই পালিয়ে যাই '।

নিহত রাশেদের স্ত্রী লাকী খাতুন বলেন, 'ও বারান্দায় বসে মোবাইলে ভিডিও দেখছিল। আর আমি ওয়াশরুমে গিছিলাম। ওয়াশরুমে যাবার পরপরই একটা শব্দ শুনি। আর বাইরে এসে দেখি ওর ছোট ভাই জহরুল ওকে (স্বামী) কোপাচ্ছে। আমি কাছে আসতেই জহরুল দৌড়ে চলে যায়। তখন আমি মানুষজন ডেকে তাদের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিলে ডাক্তার বলে মরে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জহুরুলের সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। জহুরুল কাজ করে না, শুধু নেশা করত। গত ঈদে পাঁচ হাজার টাকা চাইছিল। কিন্তু দিছিলাম না। সেই রাগ ও এত দিন পুষে রাখবে ভাবিনি। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

ঘাতক ছোট ভাই জহুরুলের স্ত্রী আলো খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী কাজকাম করে না। নেশা করত। বারবার টাকা চাইত। কী জন্য হত্যা করল, তা জানি না। তবে যে অপরাধী, তার বিচার হোক।’

এদিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. হোসেন ইমাম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয় এবং শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, কি কারনে ছোট ভাই বড় ভাইকে হত্যা করেছে  বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়নি। তবে প্রাথমিক জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে হয়তো এই হত্যাকাণ্ডটি হতে পারে।ছোট ভাইকে গ্রেফতার করার পরেই বিষয়টি জানা যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যা কান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়