শিরোনাম
◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি ◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম ◈ লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ‘হাতাহাতি’র উপক্রম হয়েছিল বলে দাবি মার্কিন দূতের ◈ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ ঢামেক মর্গের ফ্রিজার এক সপ্তাহ ধরে অচল, ছড়াচ্ছে লাশ পচা গন্ধ ◈ বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুলছে মরিশাসের শ্রমবাজার ◈ এনসিটি পরিচালনায় প্রস্তাব দিল দুই এমপির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম ◈ জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত ◈ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা ◈ প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:১১ বিকাল
আপডেট : ২৩ মে, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুড়িগ্রামের বট ও পাকুড়ের বিয়ে

অনিরুদ্ধ রেজা : কোনো আনুষ্ঠানিকতার কমতি ছিল না। ধুমধাম করেই সনাতন ধমের্র বিধি অনুসারে বিয়ে হয়েছে বট আর পাকুড় গাছের।

গত সোমবার গোধূলিলগ্নে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার নাজিম খাঁন ইউনিয়নে সোনালুর কুঠি গ্রামে কিরিত কান্তি রায়ের বাড়িতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়।গ্রামের শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় জমায় এ বিয়ে দেখতে। কিরিত কান্তি রায়ের বাড়িতে একসঙ্গে বেড়ে উঠছিল বট আর পাকুড় গাছ।

বট-পাকুড় একসঙ্গে থাকলে তাদের বিয়ে দিতে হয়- এমনই নিয়ম প্রচলিত রয়েছে হিন্দু সনাতন ধর্মে। যেন বাড়ির কোন অমঙ্গল না হয়। বাড়ির মালিক সোমবার গোধূলিলগ্নে এ বিয়ের আয়োজন করে ।পাকুড় গাছকে মুখোশ, ধূতি, পাঞ্জাবি পরিয়ে বরের বেশ ধারণ করানো হয়। আর পাশের বটগাছটিকে মুখোশ এবং শাড়ি পরিয়ে কনের বেশ ধারণ করানো হয়।দুই গাছের চারপাশ বাঁধানো হয় ইট আর টাইলস দিয়ে। চারপাশে কলাগাছ আর ওপরে শামিয়ানা দিয়ে সাজানো হয় ছাদনাতলা।

বিয়ে উপলক্ষে গ্রামের নারীরা হলুদ শাড়ি পরে করেছে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। বাদ্য-বাজনা আর সানাইয়ের সুরে নদী থেকে ঘটে করে জল নিয়ে আসেন তারা। যথারীতি অর্ধশতাধিক বরযাত্রীও আসেন। তাদের অভ্যর্থনা জানায় কনে পক্ষ। খাওয়ানো হয় পোলাও, সবজি, ডালসহ নানা নিরামিষ তরকারি পায়েস ও মিষ্টি।সন্ধ্যার কিছু পরে ছাদনাতলায় মন্ত্র পড়ে বিয়ে সম্পন্ন করেন পুরোহিত কমল চক্রবতী। পরে গ্রামের গৌতম কুমার কনেরূপী পাকুড়ের বাবা হয়ে কন্যা সম্প্রদান করেন। আর বররূপী বটের বাবার দায়িত্ব পালন করেন বাড়ির মালিক কিরিত কান্তি রায়।  তারা দু'জনেই এ দায়িত্ব পালন করতে পেরে বেশ খুশি। উভয়েই জানান, বট-পাকুড় গাছের বিয়ের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠল। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের প্রভাবাশালী স্থানীয় নেতা সুজন বকসী,বাবুল চন্দ্র .সহ শত শত মানুষ।

সোনা আলু কুঠি গ্রামের বিজন চন্দ্র, ইন্দ্রজিত রায় জানান,আগে থেকে শুনেছি বট পাকুড়ের বিয়ে হওয়ার কথা। এখনও ঐ প্রথায় বট পাকুড় গাছের বিয়ে দিচ্ছি। খাওয়া দাওয়াও ভাল দিয়েছে। গাছের যে বিয়ে দেয়া হয়েছে তা কোন দিনও কাটা হবে না। যুগ যুগ ধরে এই গাছ দুটি থেকেই যাবে ।আমাদের পর যারা আসবে তাদেরকেও বলে দেয়া হবে যেন গাছ কাটা হয় না। যুগ যুগ ধরে গাছ থাকে।

ভুষন চন্দ্র, প্রতিমা রানী, বাদল কান্তি  রায় জানান,আমাদের এখানে বট পাকুড়ের এটাই প্রথম বিয়ে। বৃক্ষ দুটিকে ভালভাবে রাখার জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা আরও বলেন এই গাছ গুলি তো চিরতরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গাছ গুলো রক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা।

বাড়ীর মালিক কিরিতি কান্তীরায় রায় জানান,মূলত আমাদের ধর্মীয় শাস্ত্রে লক্ষী নারায়ন পুজা আছে। বট পাইকরের মূলত বিয়ে হয় না। মূলত বিবাহ হচ্ছে লক্ষী নারায়নের। বটকে আমরা নারায়ন ধরি আর পাইকরকে লক্ষী ধরি। নারায়নের পূজা উপলক্ষ করে এ নারায়ন পূজা করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়