শিরোনাম
◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি ◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি ◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম ◈ লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ‘হাতাহাতি’র উপক্রম হয়েছিল বলে দাবি মার্কিন দূতের

প্রকাশিত : ০৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৬ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উত্তরবঙ্গের কল্যাণে যে ফেরি এসেছিল, আজ তা নীরব বালুচরের বন্দী

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রামঃ বহু আন্দোলন, বহু দাবি-দাওয়ার পর ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্রের বুকে চালু হয়েছিল রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিস। সেদিন নদীর দুই পারে ছিল উৎসবের আমেজ। যেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান। মানুষের চোখে ছিল স্বস্তির ঝিলিক, ব্যবসায়ীদের মনে নতুন সম্ভাবনার আলো।

কিন্তু সেই আলো আজ ম্লান। নাব্যতা সংকটের অজুহাতে বারবার বন্ধ হয়ে অবশেষে গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে পুরোপুরি থেমে গেছে ফেরি চলাচল। আড়াই বছরও পেরোয়নি, অথচ ফেরি সার্ভিস যেন আবারও অনিশ্চয়তার বালুচরে আটকে গেছে।

জানা গেছে, ফেরি সচল থাকলে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২০ জেলার মানুষের ঢাকা যাতায়াতের দূরত্ব কমতো ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। সময় বাঁচত, জ্বালানি সাশ্রয় হতো, কমতো ভাড়া। এখন সেই মানুষগুলোকেই ঘুরপথে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হচ্ছে-বাড়তি সময়, বাড়তি খরচ আর বাড়তি ক্লান্তি নিয়ে।

ভূরুঙ্গামারীর ট্রাকচালক ফরিদ মিয়া বলেন,“ফেরি চালু থাকলে অনেক সুবিধা হতো। এখন ঘুরে যেতে হয়, খরচ বাড়ে, সময়ও বেশি লাগে।

আরেক চালক হামিদুল ইসলাম বলেন,“চিলমারী-রৌমারী রুটে যখন ফেরি চলত, দুই প্রান্তে ট্রাকের লম্বা সারি থাকত। আমরা সাশ্রয়ে পারাপার হতাম। এখন শুধু বিড়ম্বনা।

এদিকে এ রুটে নিয়োজিত দুটি ফেরি ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’- নদের ড্রেজিং না হওয়ায় বালুচরে আটকে রয়েছে। একসময় যে ফেরি ছিল মানুষের আশার বাহন, আজ তা নিঃশব্দে ক্ষয়ে যাচ্ছে রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকলে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নাব্যতা কমে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। কিন্তু এবার আগাম পলি জমে চ্যানেল আরও সংকুচিত হয়েছে। নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে জেগে উঠেছে নতুন চর-আর থেমে গেছে মানুষের চলাচল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৪ দিনের মধ্যে ৯৭ দিন ফেরি চলেছিল।

২০২৪ সালে ২৪১ দিন সচল ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৮ দিনের মধ্যে মাত্র ৬৮ দিন চলেছে ফেরি।

এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়—এগুলো মানুষের ভোগান্তির প্রতিচ্ছবি।

ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, অনিশ্চিত যাত্রা ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া, বাড়তি ঝুঁকি—সব মিলিয়ে অনিশ্চিত যাত্রা। কখনো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা পারাপারের সময় তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও মাঝিদের মধ্যে প্রায়ই দেখা দিচ্ছে উত্তেজনা।

চিলমারী রমনা ঘাটের হোটেল মালিক রমজান আলী বলেন, ফেরি চললে ব্যবসা ভালো হতো। এখন মানুষ আসে না আগের মতো। ব্যবসাও নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সমির পাল জানান, প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ড্রেজিং চলছে। তবে এপ্রিল বা মে মাসের আগে ফেরি চালু করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়