শিরোনাম
◈ প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, ৮৭ দিনে প্রাণহানি ৬৩৯ ◈ ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি, ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে নতুন চ্যালেঞ্জ ◈ বিশ্বকাপের ক‌য়েক ঘণ্টা আগেই ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ফ্রা‌ন্সের আদাল‌তে মামলা করলেন মি‌শেল প্লাতিনি ◈ শুধু মাতৃভূমি নয়, বিশ্বশান্তির জন্যও কাজ করছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ব্যভিচার ও প্রতারণার মামলায় খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা ◈ এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে নতুন শাস্তির বিধান ◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা  ◈ বাজেটে স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ দুটোই, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা ◈ ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:২১ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে মো. সুমন আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তি তার মা সোহাগী বেগমকে (৬০) ধারালো অস্ত্র হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।

নিহত সোহাগী বেগম ওই এলাকার মৃত আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বিধবা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ছেলের নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা রাস্তায় রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর দরজা বন্ধ করে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত সুমন আলীকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমন আলী দীর্ঘদিন ধরে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এছাড়া তিনি চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় তার কাছে ধারালো অস্ত্র হাসুয়া ছিল বলেও জানান স্থানীয়রা।

পরিবারের ছোট ছেলে রবিউল ইসলাম মানিকের স্ত্রী মোসা. শান্তি জানান, সুমন নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে তার চার স্ত্রীই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নেশার টাকার জন্য শাশুড়ির ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। তাকে সুস্থ করার উদ্দেশ্যে এর আগে জেলেও পাঠানো হয়েছিল। তবে জেল থেকে বের হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সুমন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি আবারও শাশুড়িকে মারধর ও হুমকি দিচ্ছিলেন সুমন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার পুলিশে দেওয়ার সিদ্ধান্তও আলোচনা করেছিল। কিন্তু শনিবার রাতে শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ টেনে রাস্তায় ফেলে দেন তিনি।

চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছেলেকে গ্রেপ্তার করে থানায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতের অপর ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযুক্ত সুমন আলীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়