শিরোনাম
◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত ◈ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সরকারি-বিরোধী সব সংসদ সদস্যের এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গায় জমজমাট দেশের সর্ববৃহৎ খেজুর গুড়ের হাট

জামাল হোসেন খোকন: চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে জমে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট। প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হাটে শীত মৌসুম এলেই শুরু হয় গুড়ের বেচাকেনার মহাযজ্ঞ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা, ব্যাপারি ও শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সরোজগঞ্জ বাজার থেকে ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারি সারি সাজানো খেজুর গুড়ভর্তি মাটির ভাঁড়। কোথাও ঝোলা গুড়, কোথাও নলেন পাটালি—সব মিলিয়ে এক অনন্য দৃশ্য। প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার বসে এই হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। প্রতি হাটেই কয়েক কোটি টাকার গুড় লেনদেন হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সরোজগঞ্জে, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই হাটের অবস্থান। এখানকার গুড় স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় দেশজুড়ে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দামও কিছুটা বেড়েছে।

মাটির ভাঁড়ের আকার ও ওজনভেদে গুড়ের দাম নির্ধারিত হচ্ছে। মানভেদে এক ভাঁড় গুড় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি গুড়ের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। হাটে আসা ক্রেতারা দরদাম করে পছন্দমতো গুড় কিনে ট্রাকে বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ আবার আত্মীয়স্বজনের জন্য অল্প পরিমাণ গুড় বা পাটালি কিনে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের প্রবেশপথের দুই পাশে গাছিরা ধামা-কাঠায় করে বাড়িতে তৈরি পাটালি বিক্রি করছেন। ভেতরে প্রবেশ করলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারি সারি গুড়ের ভাঁড়। কোথাও দাঁড়িপাল্লায় মাপা হচ্ছে গুড়, কোথাও ট্রাকে তোলা হচ্ছে ভাঁড়। এই বেচাকেনা চলবে আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত।

স্থানীয়রা জানান, শীত মৌসুমে সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেজুর গুড়ের বেচাকেনা হয় সরোজগঞ্জ হাটে। স্থানীয় পাইকার, মহাজন ছাড়াও পাবনা, সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা এখানে আসেন। অনেক ক্ষেত্রে এই হাটের গুড় দেশের বাইরে রপ্তানিও করা হয়।

পাবনা থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল বারেক বলেন, “দাম একটু বেশি হলেও এখানে গুড়ে ভেজাল নেই। নিরাপত্তাও ভালো। তাই সরোজগঞ্জেই আসি।” সিলেটের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “অন্যান্য হাটে দাম কম হলেও সেখানে চিনি মেশানো থাকে। প্রকৃত গুড় পেতে হলে সরোজগঞ্জের বিকল্প নেই।”

কুতুবপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের ক্রেতা বদরুউদ্দীন জানান, প্রতি হাটে এখান থেকে ১০ থেকে ১৫টি ট্রাক গুড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দিন দিন গাছি কমে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আসছে না, এতে ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।”

গাছি জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৪০টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে ২১ বছর ধরে এই হাটে গুড় বিক্রি করছেন। তবে ভাঁড়ের দাম বাড়ায় লাভ কিছুটা কমে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এই হাট ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। শ্রমিক সর্দার খাইবার আলী জানান, প্রতি হাটে গুড় টানা ও ট্রাকে তোলার কাজ করে তার আয় হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। এতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “এবার গুড় উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা পরম যত্নে চিনিমুক্ত গুড় ও পাটালি উৎপাদন করছেন। ভেজাল রোধে আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি। কেউ ভেজাল গুড় বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঐতিহ্য, স্বাদ ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে সরোজগঞ্জের খেজুর গুড়ের হাট আজও দেশের সেরা ও বৃহত্তম হাট হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়