শিরোনাম
◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত ◈ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সরকারি-বিরোধী সব সংসদ সদস্যের এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১৬ বিকাল
আপডেট : ০৫ মে, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আগৈলঝাড়ায় ২শত ৪৬ বছরের প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত

বরুন কুমার বাড়ৈ, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে ২শত ৪৬ বছরের প্রাচীণ মারবেল মেলা গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় শুধু আগৈলঝাড়া উপজেলাই নয়, পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়া, উজিরপুর, ডাসার, মাদারীপুর, কালকিনি, গৌরনদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বয়সের হাজার-হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। মেলা কমিটির সভাপতি নির্মল মন্ডল জানান, রামানন্দের আঁক গ্রামে ২শত ৪৬ বছর পূর্বে মা সোনাই চাঁদ আউলিয়ার ৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়।

সাত বছর বয়সে স্বামী মারা গেলে নি:সন্তান অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে একটি নিমগাছের গোড়ায় শিবের আরাধনা ও পূজা-অর্চনা শুরু করে। ক্রমশ: তাঁর অলৌকিত্ব ছড়িয়ে পরলে ওই স্থানে বাৎসরিক পূজার আয়োজন করা হয়। মা সোনাই চাঁদ আউলিয়ার জীবদ্দশায় আনুমানিক ১৭৮০ ইং সাল থেকে শুরু করে অদ্যাবধি প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে সাংস্কৃত গান, বৈষ্ণব সেবা, নিরামিশ খাবার, নবান্ন উৎসব, মারবেল মেলা ও মারবেল খেলার মাধ্যমে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাঁর মৃত্যুর পরে ওই বাড়িটি মা সোনাই চাদঁ আউলিয়ার বাড়ি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবছর এই দিনটি উপলক্ষে বৈষ্ণব সেবা, নাম সংকীর্ত্তন, কবিগান শেষে সোয়ামণ (৫০ কেজি) চালের গুড়ার সাথে সোয়ামণ আঁখের গুড়, ৫০ জোড়া নারকেল ও প্রয়োজনীয় কলাসহ অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে নবান্ন তৈরী করে মেলায় আগত দর্শণার্থীদের প্রসাদ হিসাবে বিতরণ করা হয়।

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম আকষর্ন পৌষ সংক্রান্তিতে বাস্তুপূজা উপলক্ষে ২শত ৪৬ বছর ধরে এ গ্রামে মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ওই বাড়ির মেয়ে মারবেল মেলা উপলক্ষে ঢাকা থেকে শিখা বিশ্বাস পরিবার সহ এসেছেন। গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মারবেল খেলার জন্য এসেছেন হরষিদ সরকার, তাপস দাস, মনমথ মন্ডল,  উজিরপুর উপজেলা হারতা গ্রাম থেকে সবিতা দাস ও অনিতা মধু পরিবারের সকলকে নিয়ে মারবেল মেলায় এসেছে। তিনি জানান মেলা এসে মারবেল খেলতে পেরে ভাল লাগছে। মারবেল খেলার মূল রহস্য সম্পর্কে স্থানীয় চিত্র রঞ্জন বিশ্বাস (৮২) জানান, আমাদের পূর্বপুরুষরা এ খেলার মাধ্যমে মেলার প্রচলন করেছিল। যা আজও অব্যাহত আছে। তাদের উত্তরসূরী হিসেবে আমরা সেই প্রাচীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এদিনটিকে ঘিরে রামানন্দের আঁক গ্রামে মহোৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের মেয়ে-জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের এ মার্বেল মেলায় আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মারবেল খেলা চলছে। রাস্তার ওপর, বাড়ির আঙিনা, অনাবাদী জমি, বাগানসহ সর্বত্রই মারবেল খেলার আসর বসেছে। মার্বেল মেলা উপলক্ষে রামানন্দের আকঁ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বসেছে বাঁশ-বেত শিল্প সামগ্রী, মনিহারী, খেলনা, মিষ্টি, ফলসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান। কোদালধোয়া গ্রামের ৯ ম শ্রেণীর ছাত্র সুমন হালদার ও ১০ম শ্রেনীর নির্মল সরকার জানায়, সারা বছর টাকা জমিয়েছি মারবেল খেলার জন্য। শিশু থেকে শুরু করে কিশোর, কিশোরী, যুবক-যুবতীরা মেলার প্রধান আকর্ষণ মারবেল খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

এব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি(তদন্ত)সুশংকর মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, এই মারবেল মেলায় আগত সারধারন লোকজন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের লোকজন রয়েছে। মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি রয়েছে। মেলায় মারবেল খেলার জন্য অনেকে দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন তাদের জন্য পূর্ব থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়