শিরোনাম
◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম ◈ লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ‘হাতাহাতি’র উপক্রম হয়েছিল বলে দাবি মার্কিন দূতের ◈ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ ঢামেক মর্গের ফ্রিজার এক সপ্তাহ ধরে অচল, ছড়াচ্ছে লাশ পচা গন্ধ ◈ বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুলছে মরিশাসের শ্রমবাজার ◈ এনসিটি পরিচালনায় প্রস্তাব দিল দুই এমপির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম ◈ জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত ◈ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা ◈ প্রতিযোগিতায় টিকতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম‌ধ্যে ওয়ান‌ডে সিরিজের প্রথম ম‌্যাচ আজ

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫৯ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সরিষাবাড়ীর সংগ্রামী লাভলীর দুই দশকের লড়াইয়ে সঙ্গী একমাত্র ফ্লাস্ক!

মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) থেকে: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার লাভলী বেগম (৪৮)। একসময় স্থানীয় আলহাজ জুট মিলে ড্রয়িং মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে জীবনের চলার একমাত্র অবলম্বনটি একদিনেই ভেঙে পড়ে, শেষ হয়ে যায় নিজের ও একমাত্র মেয়ের স্বপ্ন। তবুও থেমে থাকেনি লাভলী বেগম। ফ্লাস্ক হাতে নিয়ে বাজার থেকে বাজার, দোকান থেকে দোকানে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে একাই টেনে নিচ্ছেন জীবনে চাকা।

প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর লাভলী বেগমকে মেয়েকে নিয়ে শুরু করতে হয় নতুন লড়াই। বিয়ের কয়েক বছর পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মায়। কিন্তু কয়েক বছর পর স্বামী আবুল হোসেন বল্টু তাকে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে করে। লাভলী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে পৌর শহরের শিমলাপল্লী গ্রামের সিটঘর এলাকার খলিল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার পাট মিলে চাকরির জীবন।

সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও দুঃসময় নেমে আসে লাভলীর জীবনে। খেয়ে না খেয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্যেই চলছিলো তার ও মেয়ের জীবন। শেষে কোথাও কোন কাজ না পাওয়ায় অন্যের সহায়তায় একটি ফ্লাস্ক কিনে রাস্তায় ও বিভিন্ন দোকানে দোকানে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত শিমলা বাজারের দোকানগুলোতে চা বিক্রি করেন তিনি। এতে প্রতিদিন চা বিক্রি করে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মতো আয় করেন। খরচ বাদে হাতে থাকে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। এতেই কোনোমতে তার একার জীবন চলে যাচ্ছে।

লাভলীর দীর্ঘদিনের এমন দুরবস্থা দেখে বাড়ির মালিক খলিল হোসেন গত দশ বছর ধরে তাকে বিনা ভাড়ায় নিজের বাড়ীতে আশ্রয় দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “লাভলী একসময় পাট মিলে চাকরি করতো, মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে খুবই বিপাকে পড়ে যায়। স্বামী নেই, ছেলে নেই, একটা মেয়ে ছিল, তাকে পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় বিয়ে দিয়েছি। তার কষ্ট দেখে বিনা ভাড়ায় থাকতে দিয়েছি। সরকারি-বেসরকারী বা কোন সংস্থার সহায়তা পেলে তার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যেত।”

লাভলী বেগম জানান, “স্বামী তালাক দেওয়ার পর মেয়েকে মানুষ করতে পাট মিলে কাজ করেছি। মিল বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো উপায় ছিল না দুইটি জীবন চালানোর, তাই অন্যের সহায়তায় ফ্লাস্ক নিয়ে বিভিন্ন বাজার ও দোকানে দোকানে গিয়ে চা বিক্রি শুরু করি। এখন শরীরে নানা অসুখ, হাঁটতে কষ্ট হয়, তবুও পেটের দায়ে এক বেলা খাওয়ার জন্য হলেও আমাকে চলতেই হয়।”

জীবনের প্রতিদিনই তার কাছে নতুন সংগ্রাম। তারপরও হার মানেননি সরিষাবাড়ীর অদম্য সংগ্রামী লাভলী বেগম। সামান্য সম্ভাবনা পেলেই তিনি নিজের ভাগ্য বদলাতে প্রস্তুত।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়