শিরোনাম
◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট ◈ প্রতি মাসেই কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমিই তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব : শিল্পোদ্যোক্তা একে আজাদ (ভিডিও) ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নতুন বেতন কাঠামো, বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি! ◈ বিশ্বকাপে নিয়ম না মেনে বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা জানালায় প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা উড়ালে ৪ লাখ টাকা জরিমানা!

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৫, ০২:১৩ রাত
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিপাকে জেলেরা, এবার জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা

এক নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই আরেক নিষেধাজ্ঞার মুখে সুন্দরবন ও মোংলা উপকূলের জেলেরা। মা ইলিশের পর এবার জাটকা সংরক্ষণে এ বছরের পহেলা নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শুরু হচ্ছে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা। এ অবস্থায় বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা পর্যপ্ত খাদ্য সহায়তা চান চরম বিপাকে পড়া উপকূলের জেলেরা। এদিকে, জাটাকা সংরক্ষণ অভিযানে নদীতে কঠোর অবস্থানে থাকবে কোস্টগার্ড।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব অভয়ারণ্য ও সাগরে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে নদীতে জাল ফেলতে পারছেন জেলেরা। তবে এক নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই পাঁচদিন পর শুরু হচ্ছে আট মাসের জাটকা ধরায় আরেক নিষেধাজ্ঞা। পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০ জুন দেশের সব নদী ও সাগরে জাটকা ধরা নিষেধ। ২৫ সেন্টিমিটারের কম আকারের কোন ইলিশ ধরলেই তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।

এ অবস্থায় মোংলা ও সুন্দরবন উপকূলের জেলেরা বলছেন, অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞায় তারা সঠিকভাবে সাহায্য পাননি। জাটকা সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞায় আগামী আট মাসের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তার দাবি তাদের।

মোংলা উপকূলের জেলে বিদ্যুৎ মন্ডল জানান, আমাদের জীবিকার একমাত্র পেশা নদীতে মাছ ধরা। কিন্তু এক নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই আরেক নিষেধাজ্ঞা আসছে। এখন কিভাবে চলব। আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হবে। সরকার যেন যে কোন নিষেধাজ্ঞায় বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দিলে ভালভাবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা যায়।

চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাই নগর এলাকার জেলে শাহাজাহান ফকির জানান, ‘গত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার খাদ্য সহায়তা এখনও পাইনি। ২৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও এখনও দেয়নি। মোংলা উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে দিবে। কবে দিবে তা বলেনি। এর মধ্যে আবার নিষেধাজ্ঞা আসছে, তারা খাদ্য সহায়তা আদৌ পাব কিনা বলতে পারছি না।

বাদল হাওলাদার নামে জয়মনি এলাকার জেলে জানান, মাছ ধরার একটা ট্রলার বানাতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। জাল-দড়ি বানাতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া অন্যান্য খরচও আছে উল্লেখ করে এই জেলে আরও জানান, ধার-দেনা করে বিগত দিনে চলেছি। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পশুর নদীতে নেমে ইলিশ যা পেয়েছি, তা খুবই ছোট এবং কম। এ দিয়ে সংসার চালাব নাকি দেনা পরিশোধ করব। এর মধ্যে আবার নিষেধাজ্ঞা। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা না দিলে না খেয়ে মরে যেতে হবে।

উপজেলঅ মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতেই আট মাসের নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল দেয়া হবে বলে জানান মোংলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, জাটকা সংরক্ষণের জন্য এবং পরবর্তীতে বড় ইলিশের জন্য একটু সময় দিতে হয়। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সরকার আট মাসের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এই নিষেধাজ্ঞাকালীন বাংলাদেশের যত খাল ও সাগর আছে সব প্রকার জাটকা আহরণ, বিক্রয়, মজুদ পরিবহন ও বাজারজাতকরন কঠোরভাবে বন্ধ থাকবে। তবে এই আট মাসে জেলেদের জন্য ৮০ কেজি করে দুই দফায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দেয়া হবে। এছাড়া গত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে যারা চাল পায়নি তাদেরকে চাল দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিঘ্রই তারা সে চাল পেয়ে যাবেন।  

এদিকে, জাটকা ইলিশ সংরক্ষণের অভিযানে নদী ও সাগরে কঠোর অবস্থানে থাকবে উল্লেখ করে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা সদর দপ্তর) অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানান, জাটকা নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তারা কঠোর অভিযান চালাবে। জাটকা রক্ষায় সুন্দরবন সংলগ্ন সব নদী এবং সাগরে প্রতিনিয়ত তাদের টহল জোরদার ছাড়াও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। উৎস: চ্যানেল24

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়